
সন্ধান ২৪.কম ডেস্ক ঃ ব্রাজিলে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা। সরকার সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে । মঙ্গলবার পর্যন্ত দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যালঘুদের প্রায় ৩৫ হাজার।এই সংক্রমণের গতি অব্যাহত থাকলে এই গ্রীষ্মেই আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাবে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশটি ।
বিভিন্ন বেসরকারি ও মানবাধিকার সংস্থার মতে পরিস্থিতি গুরুতর। অতি দক্ষিণপন্থী রাষ্ট্রপতি জায়ের বলসোনারোর সরকার সব তথ্য সামনে আসতে দিচ্ছে না। তাই মনে করা হচ্ছে সংক্রমিত অথবা মৃতের তালিকা ঢের বেশি। করোনা সব থেকে বেশি প্রভাবিত এলাকায় দৈনিক কতজনের পরীক্ষা হচ্ছে তা নিয়েও ধোঁয়াশা। কেন না তা জানা গেলে সংখ্যা বদলাবে। ‘‘দাবানলের বেগে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে। এটা কোনও বিস্ময়ের না,’’ জানান ওয়াশিংটন অফিস অন লাতিন আমেরিকা (ডব্লিউওএলএ)’র ডিরেক্টর জিমেনা সাঞ্চেজ-গার্জোলি। এপর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই কোভিডে মৃত্যু সব থেকে বেশি। অঙ্কের বিচারে ব্রাজিলের চেয়ে প্রায় ৭০ হাজার বেশি। শুক্রবার রাত পর্যন্ত ব্রাজিলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৩১৫ জন। মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৮৯৭ জন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের স্কুল অব মেডিসিনের ইনস্টিটিউট অব মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই)’র সমীক্ষা অনুসারে জুলাইতেই করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলকে টপকে যাবে। ব্রাজিলে করোনা মহামারীর ভয়াবহতার জন্য বহু ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি বলসোনারোর স্বাস্থ্য নীতিকেই সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে। গার্জোলি অভিযোগ করেন করোনা ছড়িয়ে পড়ার শুরু থেকেই রাষ্ট্রপতি বলসোনারো একপাশে যেমন তা অস্বীকার করেন, অন্যপাশে মহামারী ঠেকাতেও কোনও ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। বর্তমানে তাই কোভিড সংক্রমণ এমন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রথম দিকে সাধারণ মানুষও সরকারি সচেতনতার অভাবে তেমনভাবে সুরক্ষা বিধি মেনে চলেননি। উপজাতি ও আদি জনগোষ্ঠীর মানুষের পক্ষে সংক্রমণ মারাত্মক হয়েছে। বিলুপ্ত হতে পারে বেশ কিছু জনজাতির মানুষ। তিনি বলেন, ‘‘সব থেকে অসুবিধা হচ্ছে আমরা ধ্বংসের আসল ছবিটাই দেখতে পাচ্ছি না।’’


