সন্ধান২৪.কমঃ পুষ্কর সিং ধামী ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। এ নিয়ে চার মাসের মধ্যে উত্তরাখণ্ডে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী বদল করল বিজেপি।
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানী দেরাদুনে বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ধামীর নাম অনুমোদিত হয় ।

পুষ্কর হচ্ছে উধম সিং নগর জেলার খটিমা কেন্দ্রের বিধায়ক। রবিবার তিনি শপথ নিতে পারেন। এর আগে শুক্রবার রাতে রাজ্যপাল বেবি রানি মৌর্যের কাছে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন তীরথ সিং রাওয়াত। এরপর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের সক্রিয়তা শুরু হয়।
ত্রিবেন্দ্র সিং রওয়াত গত ১০ মার্চ ইস্তফার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন গঢ়ওয়ালের সাংসদ তীরথ। বিধায়ক না হওয়ার পরেও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতে আসতে হতো রাওয়াতকে। কিন্তু কভিড পরিস্থিতিতে বিধানসভা উপনির্বাচন না হওয়ায় বিধায়ক হতে পারেননি তিনি। তাঁর ইস্তফার কারণ হিসেবে রাজ্য বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বের খবরও সামনে এসেছে।
এদিকে উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা বছর গড়ালেই ফেব্রুয়ারি মাসে । তার আগে যেভাবে কয়েক মাসের মধ্যে এভাবে মুখ্যমন্ত্রী বদল করা হলো, তা রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডের এই মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতির আঙিনাও সরগরম। তীরথের পদত্যাগের মাধ্যমে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বার্তা দিয়েছে বলে জল্পনাও তীব্র হয়েছে।
মমতার দল পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে জিতলেও তাঁকে হারতে হয়েছে নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে । নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। তীরথ নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে ইস্তফা দেওয়ায় মমতারও এই পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করা উচিত—এমনটা বলছে বিজেপি।
তৃণমূলের মূখপাত্র কুনাল ঘোষ দাবি করেছেন, নৈতিকতা কোনো ইস্যুই নয়। আসলে দলের অভ্যন্তরে কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন তীরথ। এই দায়িত্ব পালন করতেই ত্রিবেন্দ্রকে সরিয়ে তীরথকে আনা হয়েছিল। অন্যদিকে কংগ্রেসর তরফে সংবাদ সম্মেলন করে উত্তরাখণ্ডে অস্থিরতার কথা বলা হয়েছে। তারা বলেছে, বিজেপি সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি, বিজেপি নেতারা শুধু ক্ষমতার খিদে প্রদর্শন করতে চেয়েছেন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, আজকাল।


