সন্ধান২৪. স্ত্রী ও শাশুড়িকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন জামাই। স্ত্রী শিল্পীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ মামলা চলছিল অমিতের। বেঙ্গালুরুতে থাকতেন শিল্পী। শাশুড়িকে খুন করার আগে স্ত্রীকেও খুন করে আসেন অমিত।
সোমবার বিকেলে শাশুড়িকে খুন করার ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাগান থানা এলাকার একটি অভিজাত আবাসনে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত জামাইয়ের নাম অমিত আগরওয়াল (৪২) এবং শাশুড়ির নাম ললিতা ঢনঢনিয়া(৬০)। ফ্ল্যাটের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া তাঁর সুইসাইড নোট থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছে পুলিশ।বেঙ্গালুরু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে শিল্পীর দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বেঙ্গালুরু পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গলা টিপে খুন করা হয়েছে শিল্পী আগরওয়ালকে। বেঙ্গালুরু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় যখন শিল্পীর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয় তখন পচন ধরতে শুরু করে দিয়েছিল। দেহের পচনের ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ২৪ ঘন্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুন করা হয়েছে শিল্পীকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে পেশায় ব্যবসায়ী সুভাষ ঢনঢনিয়া ফুলবাগানের রামকৃষ্ণ সমাধি রোডের অভিজাত রামেশ্বরম আবাসনের বাসিন্দা। তিনতলায় তাঁর ফ্ল্যাট। এ দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ অমিত হঠাৎ করে হাজির হন শ্বশুরের ফ্ল্যাটে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে অমিতের সঙ্গে বচসা শুরু হয় ৭০ বছরের সুভাষের। সেই বচসা থামানোর চেষ্টা করেন সুভাষের স্ত্রী ললিতা। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেই বচসার মধ্যেই হঠাৎ ললিতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেন অমিত। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় ললিতাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান ললিতা। সেই সময় মুহূর্তের সুযোগে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যান সুভাষ। তিনি বাইরে থেকে ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ করে দিয়ে এক প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই প্রতিবেশীর ফ্ল্যাট থেকেই ফুলবাগান থানায় ফোন করেন সুভাষ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দেখে, ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ললিতা এবং কিছুটা দূরে অমিত। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান যে পিস্তল দিয়ে শাশুড়িকে খুন করেছেন, সেই পিস্তল দিয়েই আত্মহত্যা করেছেন অমিত। ওই ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তা থেকে জানা যায়, বেঙ্গালুরু গিয়ে স্ত্রীকেও খুন করে এসেছেন অমিত।


