সন্ধান২৪.কম : ১৬৪ বছরে সবচেয়ে ব্যপক ঝড় আমেরিকায়। নাম দেওয়া হয়েছে ‘লরা’। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রবল শক্তিশালী হারিকেন লরা। লুজিয়ানায় ঝড়ে ৬ জন নিহত হয়েছে। টেক্সাসের ক্যামেরন শহরে আছড়ে পড়ে ক্যাটাগরি চার মাত্রার সামুদ্রিক ঝড়টি। লুজিয়ানায় শহরের রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের খুঁটি, দোকান-পাট লন্ড-ভন্ড হয়ে গেছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল, এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ২৪০ কিমি।
ইতিমধ্যেই আমেরিকার লুইসিয়ানায় স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটায় আছড়ে পড়েছে ‘লরা’। তখন তার গতিবেগ ছিল ২০৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা। বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই সেখানে মোট ৩ লক্ষ ৯০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। টেক্সাসের এক লক্ষ বাড়িতেও বিদ্যুৎ পরিষেবা কাজ করছে না
এর প্রভাবে টেক্সাস-লুইজিয়ানা সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই রাজ্যে ৫ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িঘর ডুবে গেছে, রাস্তায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে।


লুজিয়ানায় শহরের রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের খুঁটি, দোকান-পাট লন্ড-ভন্ড হয়ে গেছে
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, লুইজিয়ানায় আছড়ে পড়ার সময় হারিকেন লরার বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার। এটাই দেশটিতে চলতি বছরে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়।

এনএইচসি বলছে, হারিকেন লরা বর্তমানে ক্যাটাগরি পাঁচের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শক্তি সঞ্চয়ের মাত্রা অব্যাহত থাকলে এটি ঘণ্টায় ২৫৪ কিলোমিটারের বেশি গতিবেগে তাণ্ডব চালাতে পারে। ২০০৫ সালে নিউ অরলিন্সে প্রায় একই মাত্রার ঝড় ক্যাটরিনার আঘাতে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
ইতিমধ্যে হারিকেন লরার প্রভাবে লুইজিয়ানায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে টেক্সাস-লুইজিয়ানার অন্তত ৫ লাখ মানুষকে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে উপসাগরীয় উপকূলটিতে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএইচসি।


