অচিরেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ হচ্ছে !

সন্ধান২৪.কম :  বিএনপির  নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ করার বিষয়ে নেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাই  অচিরেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ হওয়ার জোর সম্ভবনা দেখা দিয়েছে !
গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযাায়ী, কাউন্সিল করার সময় ১৫ মাস পার হলেও সপ্তম কাউন্সিল কবে নাগাদ হবে, তা নিয়ে কোনও আলোচনা নেই বিএনপিতে।  বিশেষ করে দলের মধ্যে যেসব নেতা সিনিয়র ও ত্যাগী হিসেবে পরিচিত, তাদের মধ্য থেকে অন্তত চার জনকে স্থায়ী কমিটিতে মনোনীত করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্তমান একাধিক সদস্য ও দায়িত্বশীল নেতা।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপি ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় দুটি পদ শূন্য ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে মোট পাঁচটি পদ শূন্য হয়। এর তিন বছর পর ২০১৯ সালের ১৯ জুন স্থায়ী কমিটিতে মনোনীত হন সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এর কয়েক মাস পর গত বছরের অক্টোবরে দল থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান। তার জায়গাটিও শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন অসুস্থতার কারণে। তার পদটিও কোনও কাজে লাগছে না বলে সূত্রের ভাষ্য।

 দলে বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা রয়েছেন, যাদের এই সময়ে নীতিনির্ধারণে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজতর হবে। একইসঙ্গে সিনিয়রদের সম্মানজনক বিদায় জানানোর প্রক্রিয়াটিও সামনের দিনে সহজ হবে বলে মনে করছেন কোনও কোনও সদস্য। 

জানতে চাইলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমি তো মনে করি স্থায়ী কমিটিতে যে পদগুলো শূন্য অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো পূরণ হতে পারে। পুরো কমিটি বৈঠক করবে, ভরপুর আলোচনা হবে। 

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রের ভাষ্য—স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করার মতো সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে কেন্দ্র করে আলোচনা আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন—আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মো. শাজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও বর্তমান সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ। তবে এই উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে কারা এগিয়ে আছেন, এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটি ও দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর একাধিক মত পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সদস্য নিয়োগের বিষয়ে গঠনতান্ত্রিকভাবে চেয়ারপারসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সবসময়। তিনিই সদস্য মনোনীত করেন। বর্তমান কমিটি গঠিত হওয়ার পর আমাদের অনেক সদস্য ইন্তেকাল করেছেন। সে কারণে দুটি পদ পূরণ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে কিছু বাকি আছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের চেয়ারপারসনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে মতামত দেবেন। আর স্থায়ী কমিটিতে এখনও এ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।’

Exit mobile version