সন্ধান২৪.কমঃ বাঙালি জাতির জীবনে অপরিসীম গুরুত্ব ও তাৎপর্যমন্ডিত মহান বিজয় দিবস যুক্তরাষ্ট্রে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামে লাখো শহীদের আত্মদান আর কোটি মানুষের অশ্রু বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়ের গৌরব অর্জন করা দিনটিকে নিউইয়র্কের সরকারী-বেসরকারী,বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন শ্রদ্ধাভরে পালন করে। অনুষ্ঠানগুলোতে অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠন,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়।
ওয়াশিংটন ডিসি বাংলাদেশ দূতাবাসঃ
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ১৬ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫২তম বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। বিজয় দিবস স্মরণে দূতাবাস দিনব্যাপী এক কর্মসূচির আয়োজন করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান কর্তৃক সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের প্রথম পর্বের কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান ডেপুটি চিফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার, মিনিস্টার মোঃ সেলিম রেজা, কাউন্সেলর আরিফা রহমান রুমা এবং কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, এবং মিস আফরিন আক্তার, ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরো, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
মহান বিজয় দিবসকে বাঙালি জাতির জন্য একটি গৌরবময় দিন বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ইমরান বলেন ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনের কর্মসূচি। দিনব্যাপী কর্মসূচির দুই পর্বের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাউন্সেলর শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি ও ফার্স্ট সেক্রেটারী মোঃ আতাউর রহমান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দূতাবাসে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনঃ
১৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন নিউইয়র্ক-এ মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় সম্পৃক্ত বাংলাদেশী-আমেরিকানসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রবাসী বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

আগত অতিথিদের আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রূপকল্প ২০২১, রুপকল্প ২০৪১ ও ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটেগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য আমরা জাতিসংঘের চুড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছি যা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মর্যাদা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর”।
আলোচনা পর্ব শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলঃ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ১৬ ডিসেম্বর যথাযথ মর্যাদায় ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সান্ধ্যকালীন ২য় পর্বে বিদেশী অতিথিদের অংশগ্রহণে কনস্যুলেটে একটি রিসিপশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কনসাল জেনারেল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মাত্রা ও গভীরতার উপর আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, উপ-প্রতিনিধি ডঃ এম মনোয়ার হোসেন, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু,মেয়র অফিসের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিশনার দিলিপ চৌহানসহ বিভিন্ন দেশের কনসাল জেনারেল ও কূটনীতিকব্ন্দৃ উপস্থিত ছিলেন। কমিউনিটির শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট ঃ
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডের উদ্যোগে গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হোক আগামী প্রজন্ম’ এ শ্লোগানে ব্রঙ্কসের বারী হোম কেয়ার পার্টি হলে আয়োজনে ছিল প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা,স্মৃতিচারণ,আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানের পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত। শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আহমেদের সভাপতিত্বে এবং পৃষ্ঠপোষক অধ্যক্ষ ছানাউল্লা ও রেজা আবদুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী, ডা. ইনামুল হক, এমডি, কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার।
বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল মতিন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছালাম, মুক্তিযোদ্ধা এম এ নাসির, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেটের তোফায়েল চৌধুরী, আবদুর রহিম বাদশাহ, মোহাম্মদ এন মজুমদার, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, ফরিদা ইয়াসমিন, মিয়া মোহাম্মদ দাউদ, মোঃ হুমায়ুন কবির, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সাইদুর রহমান লিংকন, আবদুল মুহিত, শেখ জামাল হোসেন প্রমুখ।
৫২তম বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেটের পক্ষ থেকে ‘দুর্জয়’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ন্যান্সী খান,শারমিন তানিয়া,আনোয়ার হোসেন, মায়া এঞ্জেলিকা।
বাংলাদেশ সোসাইটিঃ
বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি গত ১৮ ডিসেম্বর ওজনপার্কের দেশী সিনিয়র সেন্টারে ৫১ তম মহান বিজয় দিবস পালন করে।
৩ পর্বের অনুষ্ঠানসূচীতে ছিল আলোচনা সভা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা,কবিতা আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী,অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব আবুল কালাম ভুইয়া ও অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহবায়ক মাইনুল উদ্দীন মাহবুব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কনসাল জেনারেল ড: মনিরুল ইসলাম। সভার শুরুতে ভাষা আন্দোলন,স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের স্মরণ করা হয়। সেই সাথে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি কামাল আহমদ, আব্দুল খালেক খায়ের, বাকের আজাদসহ সবার শান্তি কামনা করে ১মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিজয়ের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ড. মনিরুল ইসলাম, বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ফারুক চৌধুরী, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জামাল আহমদ জনি, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ওয়াসী চৌধুরী, আজিমুর রহমান বুরহান, শরাফ সরকার, মুক্তিযোদ্ধা বাহা উদ্দীন, ফিরোজুল ইসলাম পাটওয়ারী, মোজাহিদুল ইসলাম,বিয়ানীবাজার সমিতির প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান,নাজমুল হক মাহবুব,ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার,হেলাল উদ্দিন,মিজানুর রহমান, ফখরুদ্দীন ভুইয়া, রেজাউল আলম অপু, শেখ আতিকুল ইসলাম, লুৎফুল কবির প্রমূখ।
বক্তরা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জানার জন্য উৎসাহিত করার ব্যাপারে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাংকন ও কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করে সালমান আলী সাকিয়া,আরিয়ান খান,আরবী খান,ইসমী,আশহেরা শেখ, মিসকাতুল জান্নাত,মালিহা নিসা,নিয়া,মিয়া,জায়েদ তাইম,সামি রাহিম শেখ,মারিফ বিশ্বাস,সাবিনা নাবা, মুনতাহা শেখ,সারা সুলতানা চৌধুরী,ফাসির কবির, অরপনা শেখ। চিত্রাংকন ও কবিতা পাঠে শিক্ষিকা ফারজানা রাকিবা, প্রদীপ ভট্টাচার্য ও সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়।
একক কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পী অর্পনা। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।
বিপা ঃ
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস(বিপা) ব্যাপক আয়োজনে দুই দিনব্যাপী বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়।
দুইদিনের আয়োজনে ছিল বিপায় বিভিন্ন বিষয়ে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সার্টিফিকেট ও ট্রফি বিতরণ, শিশু-কিশোরদের সমবেত সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান,একক সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী,আবৃত্তিসহ বিভিন্ন পর্ব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিপার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এ্যানী ফেরদৌস অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এছাড়াও দুইদিনের অনুষ্ঠানে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিপার অন্যতম তিন শিল্পী সেলিমা আশরাফ, নিলোফার জাহান ও এ্যানী ফেরদৌস ।
১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানের শুরুতে বিপার বিভিন্ন বর্ষে অধ্যায়নরত শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সার্টিফিকেট ও ট্রফি। প্রথম,দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের দেওয়া হয় ট্রফি,অন্যদের দেয়া হয় সনদপত্র। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষককেও পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট তুলে দেন ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান। এসময় ৩০ বছর ধরে এ দেশে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য ফজলুর রহমান বিপাকে ধন্যবাদ জানান। বিপার সাফল্যগাথা তুলে ধরে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবাইকে নিয়ে বিপা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

বিপার অন্যতম সংগঠক এ্যানী ফেরদৌস তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, যেসব অভিভাবক আমাদের ওপর আস্থা রেখে তাদের সন্তানদের বিপায় নাচ-গান শেখাতে পাঠিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ। এখানে শিশুরা ভালো নাচ-গান শিখছে। ছোটবেলা থেকে শেখা শুরু করলে ভালো শিল্পী হওয়া সম্ভব।

১৭ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল শিশুদের আবৃত্তি বাঁধভাঙা, শিশুদের গান রংতুলির গল্প, রাগ খাম্বাজের ওপর পরিবেশনা আনন্দে রুমাক ঝুমা বাজে, দ্য ওয়াইল্ড সোয়নস, আমার পরিচয়। এরপর বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা সুরকার ও রূপকার। এরপর ছিল নৃত্য জয় বাংলা। আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছর পূর্তি ও ৫২ বছরে পদার্পণের বিষয়টি উল্লেখ করে বিজয়গাথার কথা তুলে ধরেন। প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে সেটি লালন করার জন্য তারা বিপার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
শিশু-কিশোরদের নান্দনিক ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার বার বার করতালি দিয়ে শিশুদের উৎসাহিত করেন।
দর্শক-শ্রোতার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিপার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি দক্ষিণ ঃ
নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি দক্ষিনের আয়োজনে জ্যাকসন হাইটসে কাবাব কিং রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আলোচনা সভা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা। সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ বদিউল আলম ও যুগ্ম সদস্য সচিব সাইদুর খান ডিউক।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন লংআইলেন্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক ডঃ শওকত আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহিন ও নিউইয়র্ক স্টেইট বিএনপির আহ্বায়ক মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান।
সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এমলাক হোসেন ফয়সাল, রুহুল আমিন নাসির, খলকুর রহমান,নাসির উদ্দিন, রিয়াজ মাহমুদ,কামরুল হাসান,জাফর তালুকদার, জাহাংগীর এম আলম,মো. সুরুজ্জামান, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, শাহাদাৎ হোসেন রাজু, কামাল উদ্দিন দিপু, জোহরা বেগম,শেখ জহির, বদরুল হক আজাদ, দেওয়ান কাউছার,আমানত হোসেন আমান,আবুল কালাম,গোলাম এন হায়দার মুকুট প্রমূখ।
ড. শওকত আলী বলেন, বাংলাদেশের নাজুক পরিস্থিতির উত্তরণে বিএনপির চেতনায় উজ্জীবিত সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঢাকায় গণসমাবেশে ঘোষিত বিএনপির ১০ দফা কর্মসূচি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির সনদ। তাই দেশপ্রেমিক প্রতিটি প্রবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান রাখছি এই কর্মসূচির পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে সরব হওয়ার জন্যে।
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টিঃ
১৯ ডিসেম্বর সোমবার জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র শাখার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ এ বার ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা আত্বাহুতি দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

সভায় বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন সাধারণ সম্পাদক আসেফ বারী টুটুল, মাহবুবুর রহমান অনিক,এস এম ইকবাল,আব্দুল কাদির লিপু, আবুল কাসেম চৌধুরী,শক্তি গুপ্তা,উত্তম ডাকুয়া,হেলাল উদ্দিন, রুবেল আহমদ,রোজি ফাহিম প্রমুখ ।
বক্তারা বলেন, কিছু সংখ্যক কুচক্রী মহল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান উপর ষড়যন্ত্র মুলক মামলা দিয়ে, দলের কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এই সব দলভাঙ্গা ব্যক্তি থেকে নেতা-কর্মীদেও দুরে থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আসেফ বারী টুটুল। প্রেসবিজ্ঞপ্তি ।


