সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : গাড়ি-বাড়ির মত সূর্যের আলোও যদি প্রয়োজনমতো কেনাবেচা হবে ! ঠিক এমনই এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার মহাকাশ স্টার্টআপ সংস্থা ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’।
মহাকাশে বিশাল আকারের আয়না পাঠিয়ে রাতের অন্ধকারে পৃথিবীর বুকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে নামিয়ে আনতে চায় তারা। মূলত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখা, বিপর্যস্ত এলাকায় আলো পৌঁছে দেওয়া এবং রাতের উদ্ধারকাজে সাহায্যের লক্ষ্যেই সূর্যালোককে ‘অন-ডিমান্ড’ বা চাহিদাভিত্তিক পরিষেবায় পরিণত করতে চায় সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির পরীক্ষার জন্য দু’টি রকেট উৎক্ষেপণ করতে ভারতের মহাকাশ সংস্থা ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর সঙ্গে চুক্তিও করেছে তারা।
কী এই পরিকল্পনা?
সংস্থাটির লক্ষ্য, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৪৫ কিলোমিটার উপরে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১৮ বাই ১৮ মিটারের (প্রায় ৫৯ ফুট ব্যাস) বিশাল আয়না পাঠানো। সূর্য ডুবে যাওয়ার পরেও মহাকাশে থাকা এই আয়নাগুলির অভিমুখ ঘুরিয়ে পৃথিবীর নির্দিষ্ট জায়গায় সূর্যের আলো পৌঁছোনো যাবে। ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে তাদের প্রথম পরীক্ষামূলক উপগ্রহ ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ উৎক্ষেপণ করার কথা। প্রাথমিক ভাবে এই আয়নাগুলি পৃথিবীর বুকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আলো ফেলবে। গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের একটি বোতাম টিপেই নিজেদের পছন্দের এলাকায় আলোর বরাত দিতে পারবেন। যাঁরা টাকা দিয়ে এই পরিষেবা কিনবেন, তাঁদের এলাকায় আলো ধরে রাখতে মহাকাশে থাকা আয়নাগুলির অবস্থান ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ করবে সংস্থাটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে এমন ৫০ হাজার উপগ্রহ পাঠানো হবে। সংস্থার দাবি, শুরুতে এই প্রতিফলিত আলো পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো হবে, তবে উপগ্রহের সংখ্যা বাড়লে তা মাঝ- আকাশের সূর্যের মতো উজ্জ্বল ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফসলের খেতে আলো দেওয়া, খারাপ হয়ে যাওয়া পথবাতির কাজ চালানো, এমনকি সামরিক অভিযানে সৌরশক্তির জোগান দেওয়ার কাজেও তা ব্যবহার করা যাবে বলে তাদের দাবি।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা অঞ্চলের লোন পাইনের কাছে মাউন্ট হুইটনির অদূরে রাত্রে বিশাল মোবাইল লাইট বসিয়ে এই প্রযুক্তির একটি বাস্তব মহড়াও চালিয়েছে সংস্থাটি। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যৌথ ভাবে করা সেই পরীক্ষায় মরুভূমির বুকে নেমে আসা তীব্র আলো দেখে চমকে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদেরই এক জন ওই আলোকে ‘চোখধাঁধানো’ বলে বর্ণনা করেছেন। সংস্থার মুখপাত্রের দাবি, রাতের অন্ধকারে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলই তাদের প্রথম গ্রাহক হতে চলেছে এবং জীবন বাঁচানোর কাজে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা দেখাতেই এই মহড়া চালানো হয়েছে।
