সন্ধান২৪.কমঃ করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর মিউটেশনের মাধ্যমে এর রুপ পরিবর্তন হচ্ছে সারা বিশ্বজুড়ে । ধারাবাহিকভাবে আলফা, বেটা, গামা, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সারা বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তবে এবার ডেল্টার পর নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনার ল্যাম্বডা নামের আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট। করোনার এই ধরনটির ‘অস্বাভাবিক’ মিউটেশন হচ্ছে। ল্যাম্বডার স্পাইক প্রোটিনে ৭টি মিউটেশনের একটি অনন্য প্যাটার্ন রয়েছে। যা ভাইরাসটি মানুষের কোষকে সংক্রামিত করতে ব্যবহার করে।
করোনার এই ধরনটির ‘অস্বাভাবিক’ মিউটেশনে ধাঁধায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরাও। গবেষকরা বলছেন, টিকা নেওয়ার পর তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিকেও ফাঁকি দিতে পারে করোনার এই নতুন ধরন।

করোনার এই ধরনটি নাম ছিল সি.৩৭। এরপর জুনে এটির নামকরণ করা হয় ল্যাম্বডা। করোনার এই ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয় পেরুতে। বর্তমানে এই ধরনটি সারা বিশ্বের ২৭ দেশে ছড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যজুড়ে করোনার এই ধরন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা সীমিত।
ডব্লিউএইচওর তথ্য মতে, পেরুতে জুন ও মে মাসে ৮২ শতাংশ করোনা রোগী এই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড এটিই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে, আগের চারটি ধরনের চেয়েও এই ধরনটি কম উদ্বেগের। করোনার এই নতুন রূপ নিয়ে ধাঁধায় বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাজ্যের ওয়েলকাম স্যাঞ্জার ইনস্টিটিউটের কভিড-১৯ জিনোমিক্স ইনিশিয়েটিভের পরিচালক জেফ ব্যারেট বলেছেন, এই ধরনের তথ্য ও ল্যাবের তথ্য ব্যবহার করে ল্যাম্বডার হুমকির বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। তার মতে, এর কারণ হলো একটি। আর সেটি হলো, অন্যান্য ধরনের তুলনায় এটির অস্বাভাবিক রূপান্তর ঘটেছে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, করোনার এই ধরনটি আলপা ও গামা ধরনের চেয়েও বেশি সংক্রামক। করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও এই ধরন ফাঁকি দিতে পারে। গবেষণাপত্রে তারা লেখেছেন, আমাদের ডেটা প্রথমবারের মতো দেখিয়েছে যে, ল্যাম্বডার স্পাইক প্রোটিনে থাকা মিউটেশনগুলো অ্যান্টিবডিকে ফাঁকি দিতে পারে। সেই সঙ্গে সংক্রমণও বাড়ায় এই ধরন।
ব্রাজিলের দক্ষিণের শহর পোর্তো আলেগ্রির একটি হাসপাতালে করোনার এই ধরনে আক্রান্ত এক রোগীকে নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। পিয়ার-রিভিউ করা হয়নি এমন একটি প্রি-প্রিন্ট গবেষণাপত্রে তারা বলছেন, পেরু, ইকুয়েডর, চিলি ও আর্জেন্টিনাতে এই ধরনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে- তা বিবেচনা করে আমরা বিশ্বাস করি, ল্যাম্বডা নামের এই ধরনটি ‘উদ্বেগের ভেরিয়েন্ট’ হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।