সন্ধান ২৪.কম:যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলাটি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে ওই মামলার বিচারকাজ চলছিল। মঙ্গলবার ওই মার্কিন আদালতের নথিপত্রে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভার্জিনিয়া জিওফ্রে নামের এক নারী যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ও ডিউক অব ইয়র্ক প্রিন্স অ্যান্ড্রু ২০০১ সালে তাঁকে তিনবার যৌন নির্যাতন করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। তবে এ অভিযোগ প্রিন্স অ্যান্ড্রু অস্বীকার করে আসছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দাখিল করা একটি নথির তথ্যে দেখা গেছে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও জিওফ্রে আদালতের বাইরে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর প্রতিনিধিরা বলেছেন, আদালতের বিবৃতির বাইরে তাঁদের কোনো মন্তব্য নেই।
আদালতের বিচারক লুইস এ কাপলানের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা মিসেস জিওফ্রের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে ‘যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ’ দেবেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু কখনো জিওফ্রের চরিত্রে কালিমালেপন করতে চাননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, জিওফ্রে নির্যাতনের পাশাপাশি মানুষের অন্যায্য আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সামরিক ও রাজমর্যাদা খোয়ালেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু
প্রিন্স অ্যান্ড্রু প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর মেলামেশার জন্য অনুশোচনাও করেছেন। মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন জিওফ্রেকে অ্যান্ড্রুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বন্ধু ছিলেন এপস্টেইন। শিশু-কিশোরীদের পাচার ও জোর করে যৌনকাজ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগে কারাবাসে থাকা অবস্থায় ‘আত্মহত্যা’ করেন জেফরি এপস্টেইন।
জিওফ্রের সাহসিকতার প্রশংসাও করেছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। জিওফ্রের আইনজীবী ডেভিড বয়েস বলেন, ‘আমি মনে করি এ ঘটনা নিজেই পুরো বিষয়টি তুলে ধরবে।’
প্রিন্স অ্যান্ড্রু ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় ছেলে।
