সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদনঃ জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা ও ফুটপাত আবারও অবৈধ ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখলে চলে গেছে । ফলে প্রতিদিন নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারীরা।
চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের হাত থেকে দখলমুক্ত করলেও তিন মাস পেরুতে না পেরুতে ব্যবসায়ীরা আবার তাদের অবৈধ ব্যবসা গেঁড়ে বসেছে।

জ্যাকসন হাইটসে বাঙালি ব্যবসায়ীদের জেবিবিএ ( জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন ) নামে তিনটি সংগঠন থাকলে এ ব্যাপারে তারা নিরব ভূমিকা পালন করছে। একজন পথচারী অভিযোগ করে বলেন, জেবিবিএ‘র অনেক নেতাও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ এইসব নেতারা মঞ্চে-মাইকে,অনুষ্ঠানে বড় বড় নীতি কথা বলেন।
এই এলাকার ফুটপাত শুধু দখলই নয়, যত্রতত্র পার্কিং দিন দিন বেড়েই চলছে I দেশিয় রাজনৈতিক বাক-বিতন্ডা আর গাড়ি পার্কিং ঘিরে হরহামেশাই মারামারি-হাতাহাতিতে লিপ্ত থাকছে বাংলাদেশি-আমেরিকানরা!

মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ পুলিশ অবৈধ ভাবে ফুটপাত দখলের কারণে জড়িতদের উচ্ছেদ ও জেল-জরিমানা করলেও কোন লাভ হয় না। ফুটপাত ও সড়ক দখলকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সচরাচর অভিযান হয় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। আবার কখনো কখনো অভিযান হলেও কিছুক্ষণ পরেই প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আবারও অবৈধ দখলে চলে যায় ফুটপাত।
গত বুধ জ্যাকসন হাইটসের বাঙালিদের ব্যবসায়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়—তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের ফুটপাত অবৈধ দখলে নিয়েছে। শুধু দখল নয়, রীতিমতো অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে ব্যবসা চলছে। কোনো ধরনে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব দোকানপাট ও যানবাহন ফুটপাত দখল করে রাখছে। আর এসব ফুটপাত দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের মানুষ চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। জনস্বার্থে নানা কথাবার্তা বলা হলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। এলাকায় শুধু অবৈধ দখলই নয়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার পার্কিংয়ের কারণে মূলসড়ক ও ফুটপাত সংকীর্ণ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া রাস্তায়-ফুটপাতে যেখানে-সেখানে গার্বেজ রাখা,পানের পিক ও সিগারেটের শেষ অংশ ফেলে পরিবেশ নোংরা করার বিষয়টি বিদেশীরা ভালো ভাবে গ্রহন করছে না। যা সত্যিই দুঃখ জনক বলে মন্তব্য করেছেন একজন পথচারী।
এ ব্যাপারে কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, ফুটপাত ও সংলগ্ন সড়ক দখলমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সৎ ও সচেতন হতে হবে। সবাই সচেতন হলেই ফুটপাত দখলমুক্ত হবে। তারা বলেন, নিউইয়র্কের বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা মানুষ এখনো আইনের প্রতি তেমন শ্রদ্ধাশীল নয়। ফলে বার বার অভিযান ও জেল-জরিমানা করলেও তারা আইন মানছে না। আর যারা এসব করছে তারা মানুষের সমস্যার কথা ভাবে না। এটাই বড় সমস্যা।


