সন্ধান২৪.কমঃ মোর্চার নেতা রাকেশ টিকায়েত শনিবারের সমাবেশে কৃষক আন্দোলনের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে বিজেপির বাক্সে ভোট না দেওয়ার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘আর যাকে খুশি ভোট দিন, বিজেপিকে একটিও ভোট দেবেন না। কারণ, দিল্লিতে কোনো প্রশাসন চলছে না; চলছে একটি ঠগের সরকার।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কৃষি আইন বাতিলে আন্দোলনরত ভারতীয় কৃষকদের ঐক্যমঞ্চ সংযুক্ত কিষান মোর্চা। হাজার হাজার ট্রাক্টরের সমাবেশ ঘটিয়ে শনিবার কলকাতায় মহাপঞ্চায়েতে (সমাবেশ) এই ডাক দেন মোর্চার নেতারা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলে বিজেপি কৃষকদের দাবি মানতে বাধ্য হবে মন্তব্য করে টিকায়েত বলেন, ‘শুনছি দিল্লির নেতারা পশ্চিমবঙ্গে আসছেন, থাকছেন। তাই আমরাও দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছি উনাদের খুঁজতে।’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে পশ্চিমবঙ্গে এসে বিজেপির পক্ষে প্রচার করে গেছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত রাজ্যে কয়েকবার এসেছেন বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা অমিত শাহ।
পশ্চিমবঙ্গে এসে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ দরিদ্র মানুষদের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন সেরেছেন অমিত শাহ্, যা নিয়ে রাজ্যে ইতোপূর্বে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
শনিবারের বক্তব্যে সেই বিষয়টিকে কটাক্ষ করে টিকায়েত বলেন, ‘ভোটের মুখে আপনার বাড়িতে যদি ভাত খেতে উনারা আসেন, তাহলে ভাত দেবেন। কিন্তু পাশাপাশি জিজ্ঞাসা করবেন, ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কী হল? আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে দিল্লিতে কেউ আলোচনায় বসছেন না কেন? তিনটি কৃষি আইন কবে বাতিল করা হবে?’
২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দেশের কৃষি ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তিনটি বিল উত্থাপন করে বিজেপি সরকার। বিলগুলোতে কৃষিপণ্যের মজুতদারীর ওপর সীমা তুলে নেওয়া, কোম্পানি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চাষ এবং উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস—এমএসপি) তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ওই বিল তিনটি আইনে পরিণত হয়। নভেম্বর থেকে এই আইনগুলো বাতিলের দাবিতে দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর কয়েক লাখ কৃষক।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদিও বলেছেন, দেশের বিস্তৃত ও মান্ধাতা আমলের কৃষি ব্যাবস্থাকে ঢেলে সাজানো ও আধুনিকায়নই নতুন তিন কৃষি আইনের উদ্দেশ্য, কিন্তু তার এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারছেন না কৃষকরা।
তারা বলছেন, ওই তিন আইনের ফলে বেসরকারি নানা বড় বড় কোম্পানি কৃষিখাতে হর্তাকর্তা হয়ে যাবে এবং দরিদ্র কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার পরিবর্তে তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বেন।
দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন শুরুর পর থেকে মোর্চার নেতাদের সঙ্গে এ পর্যন্ত এগার দফা বৈঠক হয়েছে ভারত সরকারের প্রতিনিধিদের। কিন্তু মোর্চার নেতারা আইন বাতিলের দাবিতে অটল থাকায় এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই দাবির বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান নেওয়ায় এখন পর্যন্ত এই সংকটের কোনও সমাধান হয়নি।
শনিবার কলকাতায় সমাবেশের পর নন্দীগ্রামে গিয়েও সমাবেশ সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতারা। ভারতীয় স্বরাজ পার্টি এবং মোর্চার অন্যতম নেতা যোগেন্দ্র যাদব, কৃষক আন্দোলনকর্মী মেধা পাটেকরসহ মোর্চার অন্যান্য শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।