সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদনঃ মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউইয়র্কে সফর সঙ্গী হয়ে আসায় কমিউনিটিতে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফখরুল ইসলামের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে চলছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা ।

দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সফরে আসাকে অনেকেই ভালো ভাবে মেনে নিতে পারছেন না। আবার ইউনুসের সাথে ফখরুল ইসলাম আসায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বেশী ভাগে নেতা-কর্মী খুশী হয়েছেন। ইতিমধ্যে তার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে ফোষ্টার-ফেষ্টুন ছাপিয়ে নিউইয়র্কে প্রচারেও নেমেছে।

প্রধান উপদেষ্টার সরকারি এই সফরে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আসার উদ্দেশ্য কী, সেখানে কী ভূমিকা রাখবেন তারা, আর কেনই বা নির্দিষ্ট তিনটি দলের প্রতিনিধিই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে––গোটা যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালি কমিউনিটিতে এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।
প্রশ্ন আসছে, এই সফর বিএনপিকে আসলেই কতটা লাভ দেবে, নাকি বরং অন্য শক্তিগুলিই সুযোগ কুড়োবে ?
নির্দিষ্ট তিনটি দল থেকে প্রতিনিধি নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত, নির্বাচনের আগে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে কি না, উঠেছে এমন প্রশ্নও।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক আসছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তার সাথে প্রতিনিধি দলে অংশ নেবেন-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার ড. ইউনুস জাতিসংঘে তার ভাষণে, ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশে যে সংস্কার চলছে তার চিত্র তুলে ধরবেন ।
সফরের আসল ফায়দা বিএনপি নয়, বরং জামায়াতে ইসলামী, নতুন জোট এনসিপি এবং ড. মুহাম্মদ ইউনুস পেতে পারেন—এই বিশ্লেষণ এখন আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক সফরের প্রেক্ষাপটে ড. ইউনুস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তাঁর সঙ্গে আছে । তিনি দেখাতে চাইছেন, প্রতিরোধে তিনি একা নন, তাঁর চারপাশে ঢাল তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে দস্তগীর জাহাঙ্গীর তার ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, এই সফরে ড. ইউনুস বিএনপিকে জামায়াত ও এনসিপির সমপর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন। এক কৌশলেই বিএনপিকে একটি বৃহত্তর ‘ইউনুসপন্থী’ শিবিরের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে দলটির আলাদা পরিচয় ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কের বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন,২৪এর গণঅভুত্থানে বিএনপির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ,তাই সেই অবদানের সম্মান জানাতে ইউনুস সাহেব বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সাথে এনেছেন।
জ্যাকসন হাইটসের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ইউনুস জানেন,সামনের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে,তাই তাদেরকে হাতে রাখতেই ফখরুল ইসলামকে সাথে আনছেন।
নীহার চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৩৫ টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহন করবে। তার মধ্যে মাত্র তিনটি দলকে এনে ‘কোটার চরম বৈষম্য’ বজায় রাখা হলো।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহফুজুর রহমান বলেন, বিএনপির নেতা কি করে, কোন বিবেচনায় ইউনুসের সাথে আসলো ? বিএনপির ক্ষমতায় সবোচ্চা ২য় ব্যক্তি ফখরুল ইসলাম আসছেন প্রধান উপদেষ্টা আর আমন্ত্রনে বেড়াতে আসছেন। তার এখানে কোন কাজ নাই। তা হলে দেশের এই সংকটময় সময়ে দেশ ছেড়ে উনি কেন বেড়াতে এলেন ?
আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, প্রেস সচিব বলেছেন, তারা সরকারের অংশীদার হিসেবে এ ধরনের বৈশ্বিক প্লাটফরমে অংশ নিচেছন। তার মানে ইউনুস সরকারের যত কর্মকান্ড হচ্ছে তার্ অংশীদার এই দলগুলো। তাই এই সরকার ভালো খাবাপ যাই করুক না কেন এর দায় বিএনপিকে নিতে হবে বলে আওয়ামী লীগের এই নেতা মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে বিএনপি ছাড়া কোন কিছুই করা সম্ভব না,এটি জেনেই ফখরুল ইসলামের গুরত্ব বেড়েছে। তাই তাকে খুশী করতে আনা হয়েছে-বললেন বিএনপির একজন নেতা।
কমিউনিটির সমাজসেবক জানান, বিএনপি ও মির্জা ফখরুর কি জানেন, তাদেরকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে ইউনুস ? ইউনুস বলেবেন, দ্যাখো সবাই আমার সাথে আছে । দেশে রাজনৈতিক কোন বিভাজন নাই।
মোঃ হারুণ বলেছেন,‘বি এন পি আবারও ড: ইউনুচের পাতা ফাদে পা দিয়েছে।’
আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, ‘প্রবাসীদের বিক্ষোভ থেকে বাঁচতে মির্জা ফকরুলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন ড. ইউনূস।’
কলি কলি বলেছেন,‘ইউনুস কে তেল মারতে বিএনপি, ক্ষমতা যাওয়ার আশা, মনে রাখেন দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলতেছে ইউনূসের নেতৃত্বে।”
মোহাম্মদ কামাল মন্তব্য করেছেন,‘আমার মনে হয় জাতিসংঘের বাইরের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবেলা বা সামাল দেওয়ার জন্য বিএনপিকে ব্যাবহার করছেন।”
নিরবতার মন্তব্য,‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ড. ইউনুসের আমেরিকা যাওয়া একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে দেশের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সমর্থন তাঁর প্রতি রয়েছে। এই সমর্থনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের গ্রহণযোগ্যতাকেই আরও দৃঢ় করতে চান না, বরং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এ বার্তা দিতে চান যে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এর সুযোগ নিয়ে তিনি ক্ষমতায় দীর্ঘসময় ধরে থাকার কৌশলও অবলম্বন করতে পারেন”
মোঃ রফিক-‘বিএনপিকে নতুন খেলায় আটকাতে চাচ্ছে ইনুস সাহেব।’
গোলাম মোস্তফা খানের মতামত হলো- ‘ইউনূস সাহেব যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের মত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষের দ্বারা ব্যাপক জনরোষের শিকার হবেন, বিএনপি ,জামাত ও এনসিপি নেতা গেলে তাকে প্রটেকশন দিবে এই ভেবে তাদের বডি গার্ড হিসেবে জনগণের করের পয়সা ধ্বংস করবে, এখানে দেশের কোন ফায়দা হবে না, ইউনূস সাহেব প্রায় ৭০ জনের লট বহর নিয়ে আনন্দ ভ্রমনে ১০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন।”
আহসান উল্লাহর মন্তব্য,‘সুদি ইউনুস, স্বাধীন বাংলাদেশ কে বিক্রি করতেছেন,তা হাসিল করবার জন্য, বি এন পি, পাকিস্তানের রাজাকার জঙ্গি সংগঠন জামাত, ন্যাশনাল চাঁদাবাজ পার্টি নেতাদের নিয়ে টাকা ভাগাভাগি করতে, টাকা জায়েজ করতে।”
শকওক ওসমান মুকুল বলেছেন, ‘ইন্টেরীম সরকারের সফর সঙ্গী হয়ে যারা যাচ্ছেন উনারা শিয়ালের পাঠশালার গল্প হয়তো পড়েন নাই।’
গিয়াস উদ্দিনের মন্তব্য,‘ভাই বাঙালি ফ্রিতে পেলে আলকাতরা খায়।’
যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ তাদের নেতাদের আগমনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘জাতিসংঘের ৮০ তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও রাজনৈতিক দলের সফরসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র বিপ্লবী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাংলাদেশের প্রাণ তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সাংগঠনিক সফরে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন নিউইয়র্কে আগমন উপলক্ষে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।’
উল্লেখ্য, ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন প্রধান উপদেষ্টা।


