সন্ধান২৪.কম: ভয়াবহ বিস্ফোরণ ইরানে। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২০০ জনের। আহত অন্তত ১৪১। বুধবার দুটি বিস্ফোরণ হয় ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলেমানির কবরের কাছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ২০২০ সালে আজকের দিনেই মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন সোলেমানি।

এএফপি সূত্রে খবর, ইরানের কেরমান শহরে সাহিব আল-জামান মসজিদের কাছে সোলেমানির কবরের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণগুলো ঘটে। এদিন প্রয়াত জেনারেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে প্রচুর মানুষ ভিড় করেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এখনও পর্যন্ত ২০০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। আহত হয়েছেন বহু। বিস্ফোরণের পর স্বাভাবিকভাবেই হুলস্থুল পড়ে যায় সেখানে। দৌড়াদৌড়িতে পদপিষ্ট হয়েও অনেকে আহত হন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অ্যাম্বুলেন্স। প্রায় হাজারের উপর মানুষের জমায়েত ছিল। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার বিষয়ে কেরমানের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, কীভাবে এই বিস্ফোরণ হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে সরকারি ভাবে এই বিস্ফোরণকে জঙ্গিহানা বলে জানিয়েছে ইরান। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

উল্লেখ্য, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ‘কাডস ফোর্স’-এর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানির (Soleimani) মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে তেহরান। ‘হত্যা ও সন্ত্রাসবাদে’র অভিযোগ তুলে খামেনেইর দেশ। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ শেষের পরও তাঁর বিচার চেয়ে সরব হয়েছে ইরান। বলে রাখা ভালো, ইরানের সেনা তথা রেভলিউশনারি গার্ড কোরের বাহিনী কাডস ফোর্স। ইরাকে মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে একাধিক হামলার নেপথ্যে রয়েছে এই বাহিনী। সোলেমানির অঙ্গুলিহেলনে একাধিকবার আমেরিকার ফৌজকে রক্তাক্ত করেছে তারা।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাফর মিয়াদফার বলেন, এছাড়াও, পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর অ্যাম্বুলেন্সগুলোও ওই ঘটনার কারণে সতর্ক এবং সক্রিয় রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর সোলেইমানিকে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। রেভল্যুশনারি গার্ডের বিদেশি অপারেশন শাখা, কুদস ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তিনি সমগ্র অঞ্চল জুড়ে ইরানী নীতির একজন স্থপতি ছিলেন।
তিনি কুদস ফোর্সের গোপন মিশনের দায়িত্বে ছিলেন ও হামাস এবং হিজবুল্লাহসহ মিত্র সরকার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্দেশিকা, অর্থায়ন, অস্ত্র, বুদ্ধিমত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের দায়িত্বে ছিলেন।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোলেইমানিকে ‘বিশ্বের যেকোনো স্থানে এক নম্বর সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন তিনি।


