উচ্চরক্তচাপ : লক্ষণ ও প্রতিকার

উচ্চরক্তচাপ মাহবদেহের একটি নীরব ঘাতক। এ রোগে আক্রান্ত হলে অনেকেই বুঝতে পারেন না কখন কী হয়েছে। উচ্চরক্তচাপ থেকে মানুষকে সচেতন করতে প্রতি বছর ১৭ মে দিনটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে’ হিসাবে বিশ্বব্যাপী পালন করা হয়। প্রত্যেক বছরেই একটা প্রতিপাদ্য নিয়ে দিনটি পালিত হয়।

৮৫ দেশের হাইপারটেনশন সোসাইটির সম্মিলিত সংস্থা ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লীগ উচ্চরক্তচাপ সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করার জন্য দিনটির প্রবর্তন করেছে। এ বছরে প্রতিপাদ্য ছিল-‘আপনার স্বাভাবিক সংখ্যাটা জানুন; রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন শঙ্কামুক্ত থাকুন।’ বিশ্বময় লক্ষ্য একটাই ২০৩০ সালের মধ্য প্রেশারের রোগীর সংখ্যা ৩৩ শতাংশ কমানো। উচ্চরক্তচাপ অদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন বারডেম হাসপাতালের মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খাজা নাজিম উদ্দীন।

মানবদেহের রক্তচাপ সাধারণত ১২০/৮০। এর চেয়ে বেশি হলে এবং তা দীর্ঘসময় স্থির থাকা বা বেড়ে গেলে অবশ্যই সেটার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা দরকার। এক্ষেত্রে রক্তচাপের পরিমাণ ১৪০/৯০ থাকলে চিকিৎসা নেয়া অবশ্যই দরকার। তেমনি রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলেও সেটার চিকিৎসা নিতে হবে। তবে কারও যদি ১৩৫/৮৫ হয় সেটা বেশি কিন্তু ওষুধ লাগবে না। তার সতর্কতা হিসাবে ভাত খাবার সময় লবণ বাদ দিতে হবে। ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে। স্ট্রেস কমাতে হবে। ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে সবার ডায়াবেটিস, কোলস্টেরল পরীক্ষা করতে হবে। অন্যদের বেলায় বিশোর্ধ্ব হলে, স্থুলকায় হলে, বংশে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস, ব্লাড প্রেশার বেশি থাকলে এগুলো পরীক্ষা করতে হবে।

রক্তচাপ পরীক্ষা করার টেকনিক এবং পারিপার্শ্বিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারে পিঠ সোজা করে হাত টেবিলের ওপর সটান রেখে পা মাটিতে মেলে আরামে বসতে হবে, কথা বলা যাবে না। ডিজিটাল মেশিনে মাপা গ্রহণযোগ্য তবে ভালো হবে চিকিৎসকের চেম্বারে দেখা কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা দরকার পড়ে।

প্রথমবার পরীক্ষায় যদি রক্তচাপ বেশি পাওয়া যায় সঙ্গে সঙ্গে উচ্চরক্তচাপের ওষুধ দেওয়া উচিত না। তবে যদি প্রেসার ১৮০/১১০ এবং যদি কারও স্ট্রোক করে সেক্ষেত্রে প্রথমবারেই চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে। চেম্বারে বা বাসায় ২-৩ বার ১-৪ সপ্তাহ পর পর মেপে যদি প্রেসার বেশি হয় তবেই সেটার চিকিৎসা করতে হবে।

উচ্চরক্তচাপের চিকিৎসা :

ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্লিফলোজেন অথবা গ্লুটাইডস দীর্ঘ সময় খেলে কিডনি, রক্তনালির অসুখ, স্ট্রোক (ব্রেইন এটাক), হার্ট এটাক প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। রোগীর বয়স, রোগের বয়স যত বাড়বে স্ট্রোক/ব্রেন এটাকের ঝুঁকি তত বাড়বে। নিয়মিত ফলোআপের তাই বিকল্প নাই। বয়স চল্লিশের বেশি হলে স্টাটিন খেলে উপকার হবে।

ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। ফল, শাক-সবজি বেশি খেতে হবে। চর্বি ছাড়িয়ে মাংস খেতে হবে, মাছ বেশি খেতে হবে। যে তেল জমে যায় (স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট) বাদ দিতে হবে। পাতে লবণ বাদ দিতে হবে। ধূমপান হারাম করতে হবে। চা কফি অ্যালকোহল সীমিত করতে হবে। স্ট্রেস কমাতে হবে। ৮ ঘণ্টা বিছানায় থাকুন; সাত ঘণ্টা ঘুমাতে হবে (৫-এর কম নয় ৯ ঘণ্টার বেশি নয়)।

Exit mobile version