ঐতিহাসিক রায় : তিন এসআইর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সন্ধান২৪.কম : গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এক ঐতিহাসিক রায়ে পুলিশ হেফাজতে জনি নামের এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা  অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন । দেশে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অনেক অভিযোগ উঠলেও মামলা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনি হত্যা মামলায়ই হলো প্রথম রায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই হচ্ছে পুলিশ হেফাজতে মামলায় মৃত্যুর প্রথম রায়। ঘটনার ছয় বছর পর গতকাল আদালত মামলার তিন আসামি—পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ইসলাম ও এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টুকে (দুজন বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে এসআই) আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে বাদীপক্ষকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইশতিয়াক হোসেন জনিকে রাজধানীর পল্লবী থানা হেফাজতে নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি পানি পানি বলে অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন। কিন্তু তাঁকে পানির পরিবর্তে থুতু দেওয়া হয়।  আদালত বলেছেন, থানা হেফাজতে তাঁকে (জনি) যে নির্যাতন করা হয়েছে, তা ঘৃণ্য এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এসআই জাহিদের (জাহিদুর রহমান) করা এই নির্যাতন বাকি দুই পুলিশ সদস্য দেখলেও তাঁরা ভুক্তভোগীকে সহায়তা না করে অপরাধে সহায়তাকরেছেন।

মামলার অন্য দুই আসামি পুলিশের সোর্স রাসেল ও সুমনকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ের আগে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে কারাগারে থাকা এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ ও পুলিশের সোর্স সুমনকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা একই থানার এসআই রাশেদুল ইসলামও উপস্থিত হন। আদালত তাঁদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জামিনে গিয়ে পলাতক এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু ও পুলিশের সোর্স রাসেল আদালতে হাজির হননি। এ জন্য তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরে বন্ধুর গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে পুলিশের সোর্সের অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় ইশতিয়াক হোসেন জনি ও তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে পল্লবী থানায় নিয়ে রাতভর পেটানো হয়। জনির অবস্থা খারাপ হলে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকি ৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Exit mobile version