সন্ধান২৪.কম : করোনার কারণে কঠোর শর্ত আরোপের ফলে বাংলাদেশিদের ওমরাহ পালনে প্রায় দ্বিগুণ খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এবং সংশ্লিষ্টরা।
হাব সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিম জানান, কোভিড-১৯ পূর্ব স্বাভাবিক সময়ে একজন ওমরাহ পালনকারীর যে খরচ হতো এই কোভিডকালে তার প্রায় দ্বিগুণ খরচ হবে সৌদি সরকারের বেঁধে দেওয়া বাধ্যতামূলক বিভিন্ন শর্তের কারণে। ওমরাহ প্যাকেজ এখনো শুরু হয়নি দেশে। বিমান ভাড়া ও সৌদি আরবে হোটেল ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ওমরাহ প্যাকেজে করোনার আগের সময়ের চেয়ে ৪০-৫০ হাজার টাকা বেশি লাগতে পারে। অতীতের স্বাভাবিক সময়ে হোটেলের একটি কক্ষে চার যাত্রীকে রাখা যেত। বর্তমানে হোটেলের এক রুমে দুই জনের বেশি ওমরাহ যাত্রী রাখা যাবে না।

অতীতে মানুষ নিজেদের ইচ্ছেমতো সীমিত টাকায় খাবার খেতে পারতেন। কিন্তু শর্তারোপের ফলে এখন তা সম্ভব হবে না। করোনা মহামারি শুরুর পর্বে ১৪ দিনের প্যাকেজে কমবেশি ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ওমরাহ পালন করা যেত। এখন সেই প্যাকেজ হবে ১০ দিনের। একজন যাত্রী সৌদি আরবে গিয়ে একাধিকবার ওমরাহ করতেন। এখন একবার মাত্র সুযোগ পাবেন। আগে সব বয়সের মানুষ এখন ওমরাহ পালন করতে যেতে পারতেন। বর্তমানে ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সিরাই ওমরাহ পালনে যেতে পারবেন। তবে সৌদি সরকার ঘোষণা করেছে, চতুর্থধাপের ওমরাহ যাত্রীদের কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। এখন চলছে তৃতীয় ধাপ। চতুর্থ ধাপে-করোনা মহামারি সম্পূর্ণ দূর হওয়ার পর মক্কার মসজিদুল হারাম ও ওমরাহর কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
ওমরাহ এজেন্সির তালিকা করছে সরকার:বাংলাদেশ সরকার ২০২০-২০২১ সালের ওমরাহ কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী বৈধ এজেন্সির তালিকা করছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ওমরাহ এজেন্সিগুলোকে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ধর্ম সচিব বরাবর নিজস্ব প্যাডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর বহির্বিশ্বের মুসলমানদের পবিত্র ওমরাহ পালনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করেছে সৌদি সরকার। গত পহেলা নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ওমরাহ করতে পারছেন। এখন প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষ ওমরাহ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
বাইরের দেশ থেকে আগত ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সৌদি আরবের অনুমোদিত ৫৩১টি ওমরাহ এজেন্সির প্রত্যেকেই প্রতিদিন ২০ জন যাত্রীর দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান ইত্তেফাক/এএএম