ওয়াশিংটনে সদর দপ্তর সরাচ্ছে বোয়িং

শিকাগো থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে সদর দপ্তর সরিয়ে নিচ্ছে বোয়িং। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। বলা হচ্ছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বোয়িংয়ের নির্বাহীরা ফেডারেল সরকারের আরো কাছাকাছি অবস্থান করতে পারবেন। খবর এপি।

নতুন প্রধান কার্যালয়টির অবস্থান হবে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে। সেখানে একটি গবেষণা ও প্রযুক্তি-বিষয়ক হাব গড়ে তোলারও পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড ক্যানহউন বলেন, কৌশলগত নানা কারণে বৈশ্বিক সদর দপ্তর হিসেবে অঞ্চলটি যথাযথ। বিশেষ করে গ্রাহক ও অংশীদারদের আরো ভালো সেবা দেয়া যাবে এর মাধ্যমে। এ কেন্দ্র থেকে বিশ্বমানের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতের সেরা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগও আরো সহজ হবে।

বোয়িংয়ের এ সদর দপ্তর স্থানান্তরকে ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সরকারের প্রধান গ্লেন ইয়ংকিনের বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর তিনি নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ভার্জিনিয়ায় নতুন ব্যবসা ও চাকরির চমত্কার ক্ষেত্রে পরিণত করা হবে। বোয়িংয়ের এ ঘোষণার পরে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজের মাধ্যমে আরো নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভার্জিনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে চান তিনি। বিশেষ করে প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যে ভার্জিনিয়া সবচেয়ে ভালো হবে তা প্রমাণ করতে চান।

ভার্জিনিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বোয়িংয়ের সদর দপ্তর স্থাপনের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বোয়িং। এখন সদর দপ্তর সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে পেন্টাগনের আরো কাছে গেল তারা। কারণ এ খাতের অন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সদর দপ্তরও ওয়াশিংটন ডিসিতেই অবস্থিত। আবার বোয়িংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) কাছাকাছি থেকে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এই এফএএ থেকেই বোয়িংয়ের যাত্রীবাহী ও কার্গো বাহনগুলোর সনদ দেয়া হয়।

সব মিলিয়ে সদর দপ্তর পরিবর্তন বোয়িংয়ের জন্য বেশ লাভজনক হবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। কারণ ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে বেশ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয় বোয়িং করপোরেশন। সে সময় উড়োজাহাজের নকশার অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে এফএএর সঙ্গে তাদের সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। তাছাড়া মহামারীসহ নানা কারণে গত দুই বছর খারাপ গেছে। তবে সেসব কাটিয়ে উঠতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যার মধ্যে রয়েছে এ সদর দপ্তর পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ।

Exit mobile version