কর্নাটক জোয়ার কংগ্রেসের,বিজেপির কাজে এল না হিজাব, টিপু, মুসলিম সংরক্ষণ, বজরং‌ বিতর্ক

সন্ধান২৪.কম : কর্নাটকের বিধান সভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি । হিমাচল প্রদেশের পর কর্নাটকেও বড় জয়ের পথে কংগ্রেস । দক্ষিণ ভারতের ক্ষমতা থেকে মুছে গেল বিজেপির নাম-নিশানা।

কোন কাজেই এল না হিজাব, টিপু, মুসলিম সংরক্ষণ, বজরং‌ বিতর্ক! মেরুকরণের অস্ত্র ভোঁতা হয়ে গেল মোদী-শাহের।

 কর্নাটকের বিধান সভা নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছে ১৩৬ টি আসন । অপর দিকে ৬৫ টি আসন পেয়ে সোচনীয় ভাবে হারলো ধর্মভিত্তিক দল বিজেপি। এই পরাজয়ে কর্নাটকের সরকার থেকেও ছিটকে পড়লো নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার  বিজেপির। কর্নাটকে কংগ্রেস ও বিজেপি বাদে  জেডিএস ২০ অন্যান্য ৪ আসন জিতে নিয়েছে।

বিপুল সমর্থন নিয়ে জেতার পর রাহুল গান্ধী বলেছেন,‘ঘৃণার বাজারে ভালোবাসার দোকান খুললো কর্নাটক। কর্নাটকের ফল দেখালো দেশ ভালোবাসাতেই আস্থা রাখে ঘৃণায় নয় ।’

ধর্মকে ব্যবহার, জাতপাতের বিচার ও সাম্প্রদায়িকতাকে ভোটে আনার জন্য বিজেপির এই পরাজয় বলে মনে করা হচ্ছে। এর সাথে বিজেপির হারের জন্য ‘মোদী ম্যাজিক’ দিন দিন ফিকে হচ্ছে বলেও ভারতবাসী মনে করছেন।

কিন্তু দক্ষিণ ভারতের একমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্যে পদ্মশিবির যে এ ভাবে পর্যুদস্ত হবে, অধিকাংশ জনমত সমীক্ষাতেই তার আঁচ মেলেনি। বোঝা যায়নি, কংগ্রেসের ‘সুশাসন’ আর ‘দুর্নীতিমুক্ত’ কর্নাটক স্লোগানের সামনে এ ভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে বিজেপির মেরুকরণের প্রচার।

অথচ, গত দু’বছরে কর্নাটকে বিজেপির ‘মেরুকরণের রাজনীতির’ অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে একাধিক বার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব বিতর্ক, ব্রিটিশ বিরোধী লড়াইয়ের শহিদ টিপু সুলতানের ধর্মীয় পরিচিতি, ওবিসি মুসলিমদের সংরক্ষণ বাতিল, কংগ্রেসের ইস্তাহারে বজরং দল নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতির মতো বিষয়কে হাতিয়ার করে মেরুকরণের চেষ্টা করেছে বিজেপি। এমনকি, ভোটের প্রচারে এসেছে ‘হালাল মাংস’ এবং বিতর্কিত ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র প্রসঙ্গও।

রাহুলের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ই কি ক্রমশ জুড়ছে ভঙ্গুর কংগ্রেসকে? মোট ২২ দিন কর্নাটকে হেঁটেছিলেন রাহুল গান্ধী। মোট ৫০০ কিলোমিটার। সেই ৫০০ কিলোমিটার পথের মধ্যে রয়েছে মোট ৫১টি বিধানসভা আসন। যেখানে রাহুলের স্ট্রাইক রেট ৭০ শতাংশেরও বেশি।

বিজেপির সাথে বিশাল ব্যবধানে জেতার পর দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে অকাল দীপাবলির আবহে সাংবাদিকদের সামনে এসে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী। ঢোল-নাকাড়ার শব্দ আর কংগ্রেস কর্মীদের গলা ফাটানো ‘রাহুল গান্ধী জিন্দাবাদ’ স্লোগানের বহরে বিশেষ কিছুই ভাল করে শোনা গেল না। তবুও রাহুল বললেন। নাতিদীর্ঘ সম্বোধনে সনিয়া-তনয় যা বললেন তার নির্যাস, ‘‘ঘৃণার বাজারে ভালবাসার (মোহব্বতের) দোকান খুলে গিয়েছে। কর্নাটকবাসীকে অভিনন্দন।’’

দেশ জুড়ে বিজেপির রমরমার সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’ কংগ্রেস হাতিয়ার করেছিল রাহুলেরই ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’কে। অবশেষে রাহুলের সেই পদযাত্রার ফয়দা পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন কংগ্রেসের একাংশ। স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, কর্নাটক জয়ের পিছনে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র কৃতিত্বকেই শিরোনামে তুলে আনছে কংগ্রেস।

Exit mobile version