কর্মসংস্থানের দাবীতে গাইবান্ধায় যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন ও উদীচীর মানববন্ধন ও সমাবেশ

 সন্ধান২৪.কম : কর্মসংস্থানের দাবীতে দেশব্যাপী বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে  যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন গাইবান্ধা শাখা ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যৌথভাবে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে।

সারাদেশে অব্যাহত নারী শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও অনাচারের বিরুদ্ধে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে শহরের ডিবি রোডে মহিলা কলেজের গেটের সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে শতাধিক নেতাকর্মী এতে অংশ নেয়।

 

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উদীচী জেলা সভাপতি জহুরুল কাইয়ুম, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি প্রতিভা সরকার ববি, উদীচী জেলা  সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল গনি রিজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার,  যুবনেতা আহসান হাবীব প্লাবন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ওয়ারছ সরকার।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য শিক্ষক নেতা তপন কুমার বর্মন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাজী একরাম হোসেন বাদল, বাচিক শিল্পী দেবাশীষ দাশ দেবু, একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আফরোজা লুনা, শিক্ষক রনজিত সরকার।

উদীচী জেলা সভাপতি জহুরুল কাইয়ুম বলেন, নোয়াখালির বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে গৃহবধুকে নির্যাতন, বদরগঞ্জে আদিবাসী নারীসহ সারাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠার কারণেই আজ ধর্ষকরা দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। বক্তারা দ্রুতসময়ের মধ্যে প্রতিটি ধর্ষনের ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

যুব ইউনিয়নের  সভাপতি প্রতীভা সরকার  ধর্ষনের অপরাধে বর্তমান আইনের সংস্কার করে মৃত্যুদন্ডের বিধান রাখার দাবি জানান। বক্তারা, নোয়াখালির বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে গৃহবধুকে নির্যাতন, বদরগঞ্জে আদিবাসী নারীসহ সারাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠার কারণেই আজ ধর্ষকরা দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। বক্তারা দ্রুতসময়ের মধ্যে প্রতিটি ধর্ষনের ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

মাহামুদুল গনি রিজন বলেন, দেশের সীমাহীন বেকারত্বের পরিস্থিতিতে যুবকদের কর্মসংস্থানের দায়িত্ব সরকারকেই করতে হবে। সরকার যদি তা করতে না পারে, তাহলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। এ সরকার উন্নয়নের কথা বলে, যুবকদেরকে কর্মহীন রেখে উন্নয়ন হয় না। এটা জাতির সাথে প্রতারণা।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ওয়ারছ সরকার বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূর করে সবার গ্রহনযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করতে হবে। সেই সাথে শিক্ষা শেষে সবার কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 শিক্ষক নেতা তপন কুমার বর্মন , দেশজুড়ে সরকারি বিভিন্ন কার্যালয়-দপ্তর-সংস্থায় প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৮৯ টি শূন্যপদে নিয়োগ ও চাকরির আবেদনে ব্যাংক ড্রাফট ও পে অর্ডার প্রথা বাতিলের দাবি জানান।

মুক্তিযোদ্ধা হাজী একরাম হোসেন বাদল বলেন, সরকার যুবকদের চোখের ভাষা বুঝে না, একটা যুবকের চোখে হরেকরকম স্বপ্ন, কিন্তু কে বুঝবে এই যুবকদের ভাষা? আমার যুবক ভায়েরা বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে সংকোচিত চিত্তে একবুক হতাশা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, একটা চাকরির খোঁজে। চাকরি নেই, চাকরির বাজারে আগুন।

বাচিক শিল্পী দেবাশীষ দাশ দেবু, বলেন, জাতীয় বাজেটে যুবকদের জন্য কোনো খাত রাখা হয়নি। যা বরাদ্ধ করা হয়েছে তা অপ্রতুল। আবার সেগুলো লুটও হয়ে যায়। সরকারের শূন্যপদ রয়েছে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৬১টি আর বাংলাদেশে বর্তমানে বেকার ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার যুবক।

একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আফরোজা লুনা তার বক্তব্যে, সরকারি শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগ বন্ধ রেখে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কমিশন বাণিজ্য চলছে বলে  অভিযোগ করেন। 

শিক্ষক রনজিত সরকার বলেন,শুধুমাত্র রাস্তাঘাট ও ফ্লাইওভার দিয়ে উন্নয়ন হয় না, দেশের জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের না করলে এসব উন্নয়নের কোনো মূল্য নাই। বিশাল এ বেকার জনগোষ্ঠীকে নিয়ে উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে।

পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিপিবি জেলা কার্যালয়ে এসে শেষ করে।

 

 

Exit mobile version