নির্বাচিত আমেরিকান গণপ্রতিনিধিরা বেতন-ভাতা হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উপার্জন করলেও প্রকৃতপক্ষে তা দিয়ে তাদের আসল সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা করা যায় না। নির্ধারিত সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াও তারা বিনিয়োগ, রিয়েল এস্টেট, তাদের লেখা বই, বক্তৃতা প্রদানসহ অন্যান্য উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেন। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাজনীতিবিদের সম্পদ এবং তারা কীভাবে তাদের সম্পদের ব্যবস্থাপনা করেন তা তুলে ধরছি:
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন: ৯ মিলিয়ন ডলার
২০১৭ সালে জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তাঁর সম্পাদের পরিমাণ ছিল ২.৫ মিলিয়ন। তখন থেকে এ পর্যন্ত তাঁর সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার। এর অধিকাংশ এসেছে তার লেখা বইয়ের আয় থেকে। এছাড়া ছিল বিভিন্ন বক্তৃতা থেকে তার অর্জিত আয়। তার স্ত্রী ফার্ষ্ট লেডি জিল বাইডেন একজন শিক্ষাবিদ, যিনি স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ বই লিখে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অর্থ আয় করেন, যা তার স্বামী জো বাইডেনের আয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস: ৫ মিলিয়ন ডলার
ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০০৩ সালে যখন তিনি স্যান ফ্রান্সিসকোর ডিষ্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি পদে নির্বাচিত হন। তার উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলী, যার মধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের স্মৃতিচারণমূলক বই অন্যতম। ২০১৪ সালে অ্যাটর্নি ডাউ এমহফের সঙ্গে বিয়ের পর এই দম্পতির আয় ৫ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
ন্যান্সি পেলোসি: ১২০ মিলিয়ন ডলার
হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ১৯৭৬ সালে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০ বছর যাবত সে পদে বহাল থাকে। তিনি ১৯৮৭ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং ২০০৭ সালে প্রথমবার হাউজ স্পিকারের দায়িত্বে অভিষিক্ত হন। আরও অনেক রাজনীতিবিদের মতো তার আয়ের মুখ্য অংশ এসেছে বক্তৃতা দান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে। তাছাড়া স্বামী সাবেক কংগ্রেসম্যান পল ফ্র্যাংক পেলোসির আয়ও তার আয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে। তার স্বামী ফিনান্সিয়ার লিজিং সার্ভিসেস নামে একটি যৌথ আর্থিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।
মাইকেল ব্লুমবার্গ: ৭০ বিলিয়ন ডলার
নিউইয়ক সিটির সাবেক মেয়র (২০০২-২০১৪) ৯৮১ সালে ব্লুমবার্গ এল,পি প্রতিষ্ঠা করেন, যে প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ডাটা প্রসেসিং, সফটওয়্যার, ফাইন্যান্স ও মিডিয়া ক্ষেত্রে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তার কোম্পানির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন তাকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের মালিকানা দিয়েছে। তিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থিতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প: ২ বিলিয়ন ডলার
সাবেক রিয়েল এস্টেট ম্যাগনেট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জীবনের বেশির ভাগ সময়ে রাজনীতিতে উৎসাহী না হলেও ২০১৬ সালে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন লাভ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সফল হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ছাড়াও তিনি এনবিসি’র জনপ্রিয় শো “দি অ্যাপ্রেন্টিস” এর উপস্থাপক হিসেবে সেলিব্রিটিতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি তার পিতা ফ্রেড ট্রাম্পের বিপুল বিত্তের উত্তরাধিকার সূত্রেও সম্পদের মালিকানা হাসিল করেন।
জন কেরি: ২৫০ মিলিযন ডলার
জন কেরি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত। তিনি ১৯৮৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেক্রেটারি অফ স্টেট ও সিনেটরের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিত্তবান পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তার নিজস্ব সম্পদ ও টেরেসা হেইনজের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মালিক। স্ত্রীর সম্পদের অধিকাংশ পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হেইনজ কেচাপের আয়। এছাড়া তাদের একটি ট্রাস্টের সম্পদের পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে এক বিলিয়ন ডলারের মতো। তাদের মালিকানায় ১২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের আঙুর বাগা মার্থা’স ভাইনইয়ার্ড থেকেও তারা যথেষ্ট আয় করেন।
মিট রমনি: ৩০০ মিলিয়ন ডলার
মিট রমনি বর্তমানে ইউতাহ’র সিনেটর হিসেবে কংগ্রেসে আছেন। এর আগে তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ম্যাসাচুসেটস এর গভর্নর ছিলেন। তার বিপুল সম্পদের অধিকাংশই এসেছে বেসরকারি ইক্যুইটি ফার্মে কাজ করার মাধ্যমে, তার প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৭৫ সালে। দুই বছর পর বেইন এন্ড কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি বেইন ক্যাপিট্যাল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যা বিগত ২৫ বছর যাবত মিট রমনির সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
