সন্ধান২৪.কম : অতি প্রবল ঘুর্ণিঝড় ‘মোখা’ ভয়াল রূপ নিয়ে ক্রমেই উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ।
এটি বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোর নাগাত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করবে বলে মত দিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।
তাদের ধারণা, শুরুতেই প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রচন্ড ভাবে তাণ্ডব চালাবে। অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাসে দ্বীপটি সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার পূর্বাভাস মডেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মোখা স্থলভাগে প্রথম যে স্থানটিতে আঘাত করবে তা হলো সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ সমতল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে ৩ দশমিক ৬ মিটার ওপরে। মূল ভূখণ্ড ও দ্বীপের মধ্যবর্তী নয় দশমিক ৬৬ কিলোমিটার প্রশস্ত প্রণালি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমের উন্মুক্ত সাগরের তুলনায় অনেক অগভীর।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক বিজ্ঞানী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মোখার প্রভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পানির নিচে চলে যাবে, এটা নিশ্চিত। তবে সেটা স্থায়ীভাবে নয়। পাঁচ থেকে সাত ফুট জলোচ্ছ্বাস হলে তো সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভেসে থাকার কথা নয়।’
ড. আব্দুল মান্নানের মতে, শুধু জলোচ্ছ্বাস নয়, আজ থেকে আগামীকাল পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে ভরা জোয়ার আছে। সব ঘূর্ণিঝড় অমাবস্যা অথবা পূর্ণিমাতে আসে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমাতে জোয়ারের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি হয়।
‘সেন্টমার্টিনে আজ ভরা জোয়ার থাকবে এবং আগামীকাল কিছুটা কমবে। এবার সেন্টমার্টিনের জোয়ার কিন্তু পিক টাইমই ফলো করছে। মানে মোখা উপকূলে আসার সাথে সাথেই জলোচ্ছ্বাস শুরু হবে।’ যোগ করেন তিনি।
আজ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় মোখা।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কেন্দ্র করে কক্সবাজারকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা সেন্টমার্টিন দ্বীপ ত্যাগ করতে পারেননি তাদের যতদ্রুত সম্ভব উদ্ধার করা প্রয়োজন।