মার্চের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। কিন্তু রাশিয়ার সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে এবং রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের ইউরোপ ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে প্রায় দুই সপ্তাহের মত এই খবর প্রকাশ্যে আনা হয়নি। জানিয়েছেন এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। হাইপারসনিক এয়ার-ব্রিথিং ওয়েপন কনসেপ্ট (HAWC) পশ্চিম উপকূলে একটি B-52 বোমারু বিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা এই অত্যাধুনিক সিস্টেমের লকহিড মার্টিন সংস্করণের প্রথম সফল পরীক্ষা। একটি বুস্টার ইঞ্জিন ক্ষেপণাস্ত্রটিকে উচ্চ গতিতে নিয়ে গিয়েছিল, এই সময়ে স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনটি ম্যাক ৫ এবং তার বেশি হাইপারসনিক গতিতে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে পরিচালিত করেছিল।
মার্কিন আধিকারিকরা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিশদ বিবরণ দিতে চাননি শুধুমাত্র লক্ষ্য করেছেন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ৬৫,০০০ ফুট উপরে এবং ৩০০ মাইলেরও বেশি উড়েছিল। হাইপারসনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩,৮০০ মাইল। পশ্চিম ইউক্রেনের একটি গোলাবারুদ গুদামকে লক্ষ্যবস্তু করে রাশিয়া তার নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করার কয়েকদিন পর আমেরিকার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটির খবর সামনে এলো।
মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রের রুশ ব্যবহারের তাৎপর্যকে খাটো করেছেন। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বলেছেন যে তারা রাশিয়ানরা ক্ষেপণাস্ত্র Kinzhal missile কে মোটেই গেম চেঞ্জার বলে মনে করেন না।
রাশিয়ান Kinzhal missile কেবলমাত্র স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বায়ুচালিত সংস্করণ। পরিবর্তে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাটি ছিল আরও পরিশীলিত। HAWC ক্ষেপণাস্ত্রেরও কোনো ওয়ারহেড নেই, তার পরিবর্তে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য এটি গতিশক্তির উপর নির্ভর করে। একদিকে যখন আমেরিকা এই মিসাইল পরীক্ষা চালাচ্ছে তখন প্রেসিডেন্ট বাইডেন পোল্যান্ডে ন্যাটো মিত্রদের সাথে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে তিনি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছিলেন।
এই আবহে ওয়াশিংটন এবং মস্কোর মধ্যে অকারণে উত্তেজনা বাড়তে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে নিজেদের দূরে রেখেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া যাতে আঙ্গুল না তুলতে পারে তাই শুক্রবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) এর পরীক্ষা বাতিল করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে যে অস্ত্র ও সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে সে সম্পর্কেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা বিচক্ষণ রয়েছে। সর্বশেষ ৩০০ মিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজে পাঠানো হয়েছে আমেরিকার তরফে। ইউক্রেনে যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিরোধিতা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তারা মনে করছে ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দিয়ে সহায়তা করলে ক্রেমলিন ভাবতে পারে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী ইউক্রেন সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চাইছে ।
এই কারণেই মার্কিন কর্মকর্তারা নীরবে হাইপারসনিক পরীক্ষা সম্পূর্ণ করেছে। ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (DARPA) থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পরীক্ষাটি সমস্ত প্রাথমিক উদ্দেশ্য পূরণ করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে রাশিয়ান এবং চীনাদের সফল মিসাইল পরীক্ষার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাইপারসনিক অস্ত্রের উপর নতুন করে জোর দিয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। সরকারি হিসেবে মতে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে হাইপারসনিক অস্ত্রের বিকাশের জন্য।
