সন্ধান২৪.কম ঃ ৭ মার্চ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের উপর আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ।
ইউনেস্কো’র ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনটি উদযাপন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন এবং বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামরা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষন এবং প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানটিতে।

৭ মার্চ সকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আলোচনা পর্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।
অন্যদিকে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা কনস্যুলেটের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠান শুরু করেন ।
১৯৭১ সালে জাতির পিতা প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণ একটি জাতিকে কীভাবে বজ্রকঠিন ঐক্যের পতাকাতলে সমবেত করে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণে উজ্জ্বীবিত করেছিল তা উঠে আসে, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাবক্তব্যে। ৭ই মার্চের ভাষণ যাতে সর্বদা দীপ্যমান থাকে এবং জাতির পিতার সম্মোহনী দরাজ কন্ঠ যাতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুরণিত হয় সেজন্য নতুন প্রজন্মকে ভাষণটি বার বার শোনানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।
রাষ্ট্রদূত ফাতিমা,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে, স্ব স্ব অবস্থান থেকে সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ।
অন্যান্য আলোচকগণ ভাষণের প্রেক্ষাপট, বিষয়বস্তু, সুদূর প্রসারী প্রভাবের উপর আলোকপাত করেন। জাতির পিতার এই ভাষণে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একজন সুযোগ্য রাষ্ট্রনায়কের সুচিন্তিত কৌশলের সবটুকুই প্রতিভাত হয়েছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন ।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ঃ অন্যদিকে ৭ মার্চ তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল-এ ’ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ’ উদযাপন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা কনস্যুলেটের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণই বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে আজকের দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশী-আমেরিকান নাগরিকগণ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবেন এবং তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে অনুপ্রাণিত হবে বলে কনসাল জেনারেল উল্লেখ করেন।
২০২১ সালে জাতিসংঘ কতৃক বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার অর্জনটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেয়া নির্ধারিত উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনের জন্য সকলকে যার যার অবস্থানে হতে একযোগে কাজ করার আহবান জানান কনসাল জেনারেল। অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ব–দ্ধ হয়ে যারা দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন তাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে।