টনসিলের অস্ত্রোপচার না করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

ছোট বড় প্রায় সবারই টনসিলের সমস্যা দেখা দেয়। টনসিলে ইনফেকশন হলে বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়। টনসিলের সাধারন কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখে রোগ চিহ্নিত করা যায়।

টনসিল ইনফেকশনের জন্য ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া উভয়ই দায়ী। ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে প্রধানত বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপ্টোকক্কাস দিয়ে হয়। এ ইনফেকশনের অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বারবার ঠান্ডা সর্দি লাগা, পুষ্টিহীনতা, পরিবেশ দূষণ, দেহে অপর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা; অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয়ে আসক্তি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন।

টনসিল প্রদাহের লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে জানিয়েছেন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী

লক্ষণ

এ রকম সমস্যাকে তীব্র ইনফেকশন বলা হয়। চিকিৎসকের দেওয়া উপদেশ মেনে চললে এবং সঠিক সময়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে টনসিলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সাধারণত এন্টিবায়োটিক, মাউথওয়াশ, ব্যথার ওষুধ, এন্টিহিস্টামিন ও প্রচুর পরিমাণে পানি পানের উপদেশের মাধ্যমে টনসিলের ইনফেকশনের চিকিৎসা করা হয়।

তবে কেউ যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা না নেয় এবং চিকিৎসকের উপদেশ মেনে না চলে তবে বারবার দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হয়ে থাকে, যাকে Chronic tonsillitis বলা হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে Chronic tonsillitis-কে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তবে এই দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশন যদি বছরে চার-পাঁচবার করে পরপর দুই বছর হয়, তবে অসুস্থ টনসিল অস্ত্রোপচার করিয়ে নেওয়াই শ্রেয় এবং স্থায়ী সমাধান।

দীর্ঘমেয়াদি টনসিলের ইনফেকশন থাকলে অপারেশন না করালে নিন্মোক্ত সমস্যা হতে পারে

তাই এ ধরনের সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধের মাধ্যমে যদি সমাধান না হয়, তবে টনসিল অপারেশন করানো ভালো এবং নিরাপদ। আমাদের দেশে প্রতিদিন নিয়মিত টনসিল অপারেশন হচ্ছে।

কখন টনসিলের অস্ত্রোপচার করা যাবে না

আশার কথা, তীব্র ইনফেকশন প্রথমে হলে সে ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ভালো ওষুধ সেবন, উপদেশমতো ঠান্ডা এড়িয়ে চললে, কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করলে এবং আদা-লেবু রং চা পান করলে অস্ত্রোপচার টেবিলে যাওয়া থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Exit mobile version