টুইন টাওয়ারের নামে অর্ধেকই রাখল যুক্তরাষ্ট্র

সন্ধান ২৪.কম:আফগানিস্তারের যে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তার অর্ধেক ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাকি অর্ধেক খরচ করতে চান যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে চরম আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের সহায়তায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানদের ওই অর্থ স্থানীয় সময় শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে জমা থাকা ওই অর্থ আটকে দেওয়া হয়। বাইডেনের অর্থ জব্দের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিনিয়র

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আফগানিস্তানের জব্দ করা অর্থের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার আফগানদের মানবিক সহায়তার জন্য গঠন করা তহবিলে যুক্ত করার অনুমতি চাইবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাকি অর্থ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাখা হবে।

হোয়াইট হাউজ থেকেও একই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, জব্দ করা আফগান অর্থ নিয়ে মার্কিন আদালতে মামলা চলছে। ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ওই অর্থ দাবি করে মামলাটি করেছিলেন। এ কারণে ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ যুক্তরাষ্ট্রেই রাখা হবে। উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাজধানী কাবুল দখল করে তালেবান। ওই মাসেই আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যায় দেশটিতে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অবস্থান করা মার্কিন সেনারা। এরপর তালেবান সরকার গঠন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে অর্থচুরি ও সর্বনিু স্তরের নৈতিক অবক্ষয় বলছে তালেবান : প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এ সিদ্ধান্তকে ‘চুরি’ এবং ‘নৈতিক অবক্ষয়’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তালেবান সরকার। জাতিসংঘে তালেবানের পক্ষ থেকে নিয়োগের জন্য আফগান প্রার্থী সুহাইল শাহিন আমেরিকায় থাকা ওই পুরো অর্থ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শাহিন বলেন, ‘ওই অর্থ আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবং প্রকারান্তরে আফগান জনগণের সম্পদ।

আমরা ওই সমুদয় অর্থ ছাড় দিয়ে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে জমা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তালেবানের দোহা দপ্তরের মুখপাত্র শাহিন এক টুইটার বার্তায় আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আফগান জনগণের অর্থ চুরি ও হাতিয়ে নেওয়া একটি দেশ ও জাতির সর্বনিু স্তরের মানবিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ।’ কাবুলের পতনের পর শুধু আমেরিকাই আফগান জনগণের অর্থ আটক করেনি; সেই সঙ্গে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তাও স্থগিত করে। ফলে দেশটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র খরা এবং চরম আর্থিক সংকট। গত মাসে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৯৫ শতাংশ আফগানের খাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য নেই।

Exit mobile version