সন্ধান২৪.কম: ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারের অবশেষে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন পাঁচ নারী। নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে এ মামলাটি দায়ের করেন তারা। এই ঘটনায় নিউইয়র্কে বাঙ্গালি কমিউনিটিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ।
প্রায় এক বছর আগে করা অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হলো । এদের মধ্যে চার জন জ্যাকসন হাইটসবাসী বাংলাদেশি।

এ ছাড়াও ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীকে নিজে না দেখে অন্য ডাক্তারকে দিয়ে দেখানো, রোগীকে খুব তারাতারি দেখে বিদায় দেয়া, রোগীদের সাথে দূর্ব্যহার করা এবং অযথা হয়রাণী করারও বহু অভিযোগ পাওয়া যায়।
এদিকে বেশ কয়েক মাস আগে একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ”তার মায়ের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। সম্পর্কে খন্দকার মোস্তাকের ভাগ্নে তিনি। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত এই চিকিৎসক ১৯৯৮ সালে আসেন আমেরিকায়। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুশীলন শুরু করেন। মূলত একজন সুবিধাবাদী ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস।
ইউএসএ আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা হিসাবে নিযুক্ত হতে ২০১৮ সালের আগস্টে তিনি ২০ হাজার ডলারে অর্থ লেনদেন করেছিলেন সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে। এক মাস পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাপে সিদ্দিকুর রহমান তাকে নিয়োগ থেকে সরিয়ে দেন। যদিও এর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই বিএনপির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত হতে না পেরে ২০১৯ সাল থেকেই বিভিন্ন উপায়ে দেশের আওয়ামী লীগে ভেড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন “

প্রকাশিত সংবাদে আরও বলা হয়, ”সবশেষ রাস্তা হিসেবে ২০২০ সালে কোভিড–১৯ এর বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ তার কাজটি আরও সহজ করে দেয়। ফ্রন্ট লাইনারের বেশে নিজের প্রচার প্রচারণা বাড়াতে থাকেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মুহূর্তেই যা ভাইরাল হয়েছে দেশের সবার কাছে।
আশ্চর্য বিষয় হলো বিদেশে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন এমন তথ্য বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু সেখানে থাকা প্রবাসীরা করোনার সংক্রমণে যখন দিশেহারা তখন ছুটে আসেননি বাঙ্গালীদের পাশে। উল্টো প্রবাসীরাই তার দুয়ারে গিয়ে ফেরত এসেছেন। যার ফলে প্রবাসীদের মৃত্যু মিছিল বেড়েছে। এমন বেশ কিছু ভুক্তোভোগী এরই মধ্যে তার এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এর মধ্যে অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুকে ডা. ফেরদাউস সম্পর্কে পোস্ট করেছেন।
শুধু তাই নয়, তার সম্পর্কে আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিকদের ধারণাও খুব সুখকর নয়। তার দেশে আগমন সম্পর্কে আমেরিকা প্রবাসী বিশিস্ট সাংবাদিক দর্পন কবির তাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, আমেরিকায় কতজন বাংলাদেশিদের সেবা করেছেন? কতজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে।
তবে এরপরেও তার নিরব ভূমিকা পালন এটাই বলছে যে, বিএনপি–জামায়াতের আমলে নিজের মূল পোষাক বদলে দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ফ্রন্ট লাইনারদের মতো মহান যোদ্ধার ছদ্মবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগে জায়গা পাবার উদ্দেশ্যে আসা তো বটেই; সাথে ভার্চুয়াল মিডিয়ার বিশাল ভক্তদের আবেগকে পুঁজি করে নিজের দল ভারি করার জন্যই তার বাংলাদেশে আগমন।”
অত্যন্ত চতূর ও ধান্দাবাজ ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার এত অপকর্মের সমৃ্ক্ত থাকলেও, এসব ঘটনার কথা নিউইয়র্কের মিডিয়ায় একটা প্রকাশ করা হয় নাই। ফেরদৌস খন্দকার মিডিয়াগুলোকে অর্থ দিয়ে তার নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে জনশ্রুতি আছে। অনেকে রসিকতা করে বলেন, কোন সাংবাদিক দুই/ এক কলম লেখার উদ্যোগ নিলেই, ফেরদৌস খন্দকারের পক্ষ থেকে ”টাকার খাম” চলে যেত সেই সাংবাদিকের কাছে। ফলে তার সব অপকর্মের কথা প্রকাশ পেত, অন্ধকারেই থেকে যেত।
সদ্য আদালতে দায়ের করা মামলা থেকে জানা যায়, ফেরদৌস খন্দকার বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার নামে রোগীদের যৌন নির্যাতন করেছেন। তিনি ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদেরকে অযৌক্তিক স্তন পরীক্ষার নামে শ্লীলতাহানি করেছেন। পরীক্ষার নামে শ্লীলতাহানির ঘটনা প্রায় বিশ বছর ধরে চালিয়ে আসছেন তিনি।
একজন ডাক্তার বলেন, যারা রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার নামে অসৎ কাজে লিপ্ত হন, তারা ডাক্তার না পশু। এই সব চরিত্রহীন ডাক্তাররাই আবার সমাজে সম্মানিত হন। এই সব ডাক্তারদের জন্য মুখ দেখাতে লজ্জা হয়।
জ্যাকসন হাইটসের একজন সমাজসেবক বলেন, ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার অত্যন্ত চতূর ও ধান্দাবাজ মানুষ। কোভিড মহামারীর সময়ে তিনি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন একটি সরকারী বড় পদ বাগাতে। সেখানে তিনি নানা রকম তদ্বির করে ব্যর্থ হয়ে আবার নিউইয়র্কে ফিরে আসেন।
সেই সময় বাংলাদেশে আসার আগেই তার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে নানা খবর বের হয়। বলা হয়, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাগনে। সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ব্যবসায়িক অংশিদার। বলা হয়, ডা. ফেরদৌস খন্দকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পড়াশুনা করার সময় বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।


