তারেক রহমানের দিল্লি সফরের শর্তেই কি হাসিনাকে ফেরাচ্ছে ভারত ?  ফের মুখ খুললেন শেখ হাসিনা

(বাঁ দিকে) তারেক রহমান এবং শেখ হাসিনা (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। গত ৫ অগস্ট ভারতের মাটিতে তাঁর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেও প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি জোরালো হয়। এ বার হিন্দুস্তান টাইম্‌সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে ফের মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

কয়েকটি সূত্রের দাবি, তারেকের দিল্লি সফরের বদলে হাসিনার প্রত্যর্পণের শর্ত দিয়ে রেখেছে ঢাকা। প্রশ্ন উঠছে, সেই কারণেই কি ডিসেম্বরের মধ্যে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরার কথা ঘোষণা করতে হয়েছে ? মাথায় মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া নিয়ে না হলে কেন দেশে ফিরতে চাইছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ? হাসিনা নিজে অবশ্য সেই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে সাংবাদিক সম্মেলন করেছি, দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেটা কী ভাবে সমস্যার কারণ হতে পারে ? ২০০৭ সালে তারেক রহমান যখন ব্রিটেনে যান, তিনি একটি স্ট্যাম্প পেপারে সই করেছিলেন। রাজনীতি না-করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু লন্ডন থেকে তিনি রাজনীতিই করেছেন। তাঁর মা খালেদা জিয়ার জায়গায় নিজে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসভা করেছেন। দলীয় বৈঠকে যোগও দিয়েছেন। আমি কি কখনও ব্রিটিশ সরকারকে আমার দেশের একজন পলাতক ব্যক্তিকে এ ধরনের সভা করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছি ? আমি এমন কোনও অভিযোগ করিনি।’’

হাসিনা বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে উন্নয়ন, গণতন্ত্রের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণে আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই। উন্নয়ন থমকে গেলে কর্মসংস্থানও থেমে যায়। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। চরমপন্থী চক্রগুলি আবার সক্রিয় হলে সেটা বাংলাদেশে আঞ্চলিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’’

হাসিনা জানান, হুমকি বা হামলার সম্মুখীন হতে তিনি ভয় পান না। অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘‘আমার জীবনের উপর হুমকি নতুন নয়। ১৯৭৫ সালে আমি পরিবারকে হারিয়েছিলাম। সামরিক শাসন, স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্র দেখেছি। হত্যার চেষ্টা বার বার করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ অগস্ট আমাকে খুনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় একটি জনসভায় গ্রেনেড ছোড়া হয়। আমি বেঁচে গেলেও অনেক সহকর্মী বাঁচেননি। সেই হামলা তখন আমাকে থামতে পারেনি, আর এখনও কোনও হুমকি আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারবে না।’’ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান, তবে ঠিক কবে ফিরবেন, তা এখনও প্রকাশ করেননি। বলেছেন, ‘‘তারিখ ও সময় যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’’

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই সে দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। সে প্রসঙ্গ টেনে হাসিনার প্রশ্ন, ‘‘কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হল? আওয়ামী লীগ যদি খারাপ কিছু করে থাকে, তবে বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।  আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

 

Exit mobile version