তিউনিসিয়ায় গণভোটের রায়ে গণঅসন্তোষ : ৭২ শতাংশ অনুপস্থিত

তিউনিসিয়ায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৯৩ লাখ। এদের মধ্যে সোমবারের গণভোটে অংশ নিয়েছেন মাত্র চার ভাগের এক ভাগ ভোটার।

৭২ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত। আর তাতেই ‘খালি মাঠে গোল দিয়ে’ একনায়কতন্ত্রের ‘লাইসেন্স’ হাতিয়ে নিলেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ।

এ রায়ের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষে ফুঁসে উঠেছে তিউনিসিয়া। এএফপি, আলজাজিরা।

তিউনিসিয়ার নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে অংশ নিয়েছেন মাত্র ২৭.৫ শতাংশ ভোটার।

যদিও নির্বাচনপূর্বে জরিপের সঙ্গে এ সংখ্যাও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জরিপ অনুযায়ী নতুন সংবিধানের পক্ষে ছিলেন মাত্র ১৩ শতাংশ তিউনিসিয়ান।

কিন্তু তাতে কী! ৯২-৯৩ শতাংশ হ্যাঁ ভোটে জয়ী সাঈদের সমর্থকরা কেন্দ্রীয় তিউনিসে গাড়ি চালিয়ে পতাকা উড়িয়ে জাতীয় সংগীতের মূর্ছনায় ভেসেছেন।

আর এ জয়ের ফলে নির্বাহী, আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের ‘পকেটে’ ঢুকে গেছে। ৬৪ বছর বয়সি আইনের অধ্যাপক সাঈদ গত বছরের ২৫ জুলাই সংসদ ভেঙে দিয়ে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের দখল সম্পন্ন করেছিলেন।

এর আগে সংবিধান পরিবর্তন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গত শুক্র ও শনিবার তিউনিসে বিক্ষোভ করেছে তিউনিসিয়ানরা। পুলিশ শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নও চালিয়েছে।

রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার পক্ষে তিউনিসিয়ার জনগণ প্রথম ভোট দিয়েছিল ১৯৫৭ সালে। সে বছর জনগণের ভোটে প্রথম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সোমবারের নির্বাচন কায়েস সাঈদকে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিয়েছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। তবে সাঈদ দাবি করেছেন, দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক অভিজাতদের লাগাম টেনে ধরতে সংবিধানে পরিবর্তন জরুরি ছিল।

তিনি বলেন, ‘নতুন সংবিধান হলো তিউনিসিয়ার তৃতীয় প্রজাতন্ত্রের ভিত্তিগত দলিল। নতুন সংবিধান ডিসেম্বরে আইনসভা নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত আমাকে দেশ পরিচালনায় বৈধতা দেবে।’

নির্বাচনে কম ভোটারের অংশগ্রহণ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, এ নির্বাচন দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলে আরও ভোটার অংশগ্রহণের সুযোগ পেতেন। তিনি বলেন, ‘তিউনিসিয়ার জনগণ যা করেছে, তা বিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা-যা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা হবে।’

সাঈদের প্রধান বিরোধী জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট দাবি করেছে, এ সংবিধান অভ্যুত্থান ঘটাতে অনুপ্রাণিত করবে। বিরোধীরা বলছেন, স্বৈরশাসক জাইন এল আবিদিন বেন আলীর পতনের পর এক দশক ধরে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন সাঈদ।

ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টের আঞ্চলিক পরিচালক বেনারবিয়া বলেন, ‘সনদটি প্রেসিডেন্টকে তার শাসনামলে সব ক্ষমতা দিয়েছে-যা চাইলেই তিনি ব্যবহার করতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, বেন আলি-ধরনের দুঃসময় থেকে তিউনিসিয়ানদের রক্ষার মতো আর কোনো ব্যবস্থা অবশিষ্ট থাকল না।’

এমনিতেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিরোধীদের নানারকম হুমকি দিয়ে আসছেন সাঈদ।

তাদের ‘সাপ’, ‘জীবাণু’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট। সোমবার নির্বাচনকালীন বক্তৃতায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘যারা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত-তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।’

Exit mobile version