সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : আরও একবার নীতীশ কুমারই কি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নাকি তেজস্বী যাদবের কথায়, ‘বিহারে এ বার সুনামির পালাবদল’? কে হতে চলেছেন বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? সব প্রশ্নের অবসান হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর। ২৪৩ আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভার ভোট গণনা শুরু হবে মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে। বেশির ভাগ এগজিট পোলই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে তেজস্বী যাদবের তেজে বিপর্যস্ত হবে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। বিজয়ী হবে কংগ্রেস-আরজেডির মহাজোট।
- হসনপুরে জেডি (ইউ) নেতা রাজকুমার রায়ের কাছেপিছিয়ে পড়লেন তেজপ্রতাপ যাদব। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তেজপ্রতাপের ঝুলিতে ৪ হাজার ভোট পড়েছে। রাজকুমার রায় ৫ হাজার ৬০০ ভোট পেয়েছেন।
- বাঁকীপুরে পিছিয়ে প্লুরালস পার্টিরপুষ্পম প্রিয়া চৌধরি। কংগ্রেসের লব সিনহাও পিছিয়ে রয়েছেন।
- লক্ষ্মীসরাইয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বিজেপির বিজয়কুমার সিনহাএগিয়ে। ১ হাজার ২৮৭ ভোট পেয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের অমরেশকুমার আনিস পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩ ভোট।
- সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রাঘোপুরে প্রায় ৭০০ ভোটে এগিয়ে তেজস্বী যাদব। প্রথম রাউন্ডের গণনার পর তাঁর ঝুলিতে ২ হাজার ৫১২ ভোট পড়েছে। বিজেপির সতীশ কুমার পেয়েছেন ১ হাজার ৭৮৫ ভোট।
- জল্লে বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে বিজেপির জীবেশ কুমার। পিছিয়ে পড়েছেন কংগ্রেসের মকসুর উসমান।
- অউরাইয়ে বিজেপির রাম সুরত রাই এগিয়ে। মুজফ্ফরনগরে কংগ্রেসের বিজেন্দ্র চৌধুরী এগিয়ে।
- আরজেডি-র বাচ্চা পান্ডে বাহরিয়ায় এগিয়ে রয়েছেন।
- সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ৩৫টি আসনে এগিয়ে এনডিএ শিবির।
- বিজেপির সুরেশ শর্মা এগিয়ে মুজফ্ফরপুরে।
- হসনপুরে এগিয়ে তেজ প্রতাপ যাদব।
- শেখপুরায় এগিয়ে জেডি(ইউ)-এর রণধীর সোনি। বারবিঘাতে এগিয়ে কংগ্রেসের গজানন্দ শাহি।
- রাঘোপুরে এগিয়ে তেজস্বী যাদব।
- বিহারে ২৪৩ আসনে ভোটগণনা শুরু হল।
-

বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হল বিহারে। ভোটের ফল কোন পক্ষে যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং আরজেডি নেতৃত্বাধীন ইউপিএ শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে সেখানে। নীতীশ কুমার এ বারে কোনও কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তাঁর প্রতিপক্ষ তেজস্বী যাদব রাঘোপুর থেকে লড়ছেন। এই মুহূর্তে নিজের কেন্দ্রে এগিয়েই রয়েছেন তিনি।
বু। ইঙ্গিত মিলেছে বুথফেরত সমীক্ষায়। কিন্তু এই সব প্রশ্নের জবাব মিলবে আজ, মঙ্গলবার। সকাল ৮টা থেকে ২৪৩ আসনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে, করোনা কালে দেশের প্রথম ভোটে কার প্রতি আস্থা রেখেছেন বিহারবাসী।

বুথফেরত সমীক্ষায় কিন্তু পাল্লা ভারী আরজেডি, কংগ্রেস ও বামেদের ‘মহাগঠবন্ধন’-এর। বুথফেরত সমীক্ষা সব সময় মিলে যায় এমন নয়। কিন্তু ভোটের ফলের প্রবণতা বুঝতে এই সব সমীক্ষা মোটের উপর স্বীকৃত। তার উপর অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষাই বলছে, বিজেপি-জেডিইউ-হাম-ভিআইপির এনডিএ জোটকে পিছনে ফেলে সরকার গড়ার দৌড়ে এগিয়ে তেজস্বীর নেতৃত্বে ইউপিএ জোট। ফলে কিছুটা হলেও এগিয়ে থেকে ভোটগণনার ময়দানে নেমেছেন তেজস্বীরা।
বিজেপি-জেডিইউ-এর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা করোনা ও লকডাউন। করোনা অতিমারি দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রথম দেশে ভোট হয়েছে। সেই দিক থেকে বিহারের এই ভোট শুধু সে রাজ্যের নয়, সারা দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু নীতীশ কুমার নয়, দাঁড়িপাল্লায় মাপা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ভূমিকাও। লকডাউনে কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্কটে সাহায্য করা, কাজ হারানো অসংগঠিত শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, ক্ষুদ্র-অতিক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পক্ষেত্রকে বাঁচানো— করোনা কালে এই সব প্রশ্ন সামনে রেখেই কিন্তু ভোট দিয়েছেন বিহারের সাধারণ মানুষ।

ভোট পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আমেরিকায় যেমন কার্যত করোনাই নির্ধারণ করে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্য, করোনা-উত্তর পরিস্থিতিতে কোন পথে আবর্তিত হবে ভারতবর্ষের রাজনীতি তার খানিকটা আভাস কিন্তু মিলবে বিহারের এ বারের ভোটে। লোকসভা ভোটে বিজেপি ব্যাপক সাফল্য পেলেও বিধানসভা নির্বাচনে সেই ফল ধরে রাখতে পারল কি না, সেই প্রশ্নের চুলচেরা বিশ্লেষণের মুখেও পড়তে হবে মোদীকে।
নীতীশের কাছে আবার করোনা সঙ্কটের পাশাপাশি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা-সহ সামগ্রিক সুশাসনের পরীক্ষাও বটে। গত পাঁচ বছরে তাঁর জমানার হিসেবনিকেশ করেই বিহারবাসী ইভিএমবন্দি করেছেন নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার। নীতীশ অবশ্য ভোটগণনার আগেই রাজনৈতিক ‘সন্ন্যাস’-এর ঘোষণা করে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই তাঁর শেষ ভোট। ফলে আগামী পাঁচ বছর বিরোধী আসনে বসে কাটবে, নাকি মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে, তার উত্তর মিলবে আজই।

লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও কিন্তু অনেকটাই ঠিক করে দেবে এ বারের বিধানসভা নির্বাচন। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে লালুপ্রসাদ জেলবন্দি। এ বারের ভোটপ্রচারে কার্যত লালুপ্রসাদের ছোঁয়াচ রাখেননি তেজস্বী। কোনও জায়গাতেই প্রচারে বাবার নামে ভোট চাননি তিনি। এমনকি, তাঁর নাম পর্যন্ত করেননি। সে দিক থেকে পিতৃপরিচয়ের বাইরে বেরিয়ে আরজেডি সুপ্রিমো হিসেবে প্রচার চালিয়ে তিনি কতটা সফল হলেন, সেই প্রশ্নের জবাবও এ দিন মিলবে। পাশাপাশি লালুপ্রসাদ-উত্তর জমানায় কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর জোটের রসায়ন কেমন, বোঝা যাবে সেটাও। ইউপিএ জোট ভোটে জিতলে তেজস্বীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত। সেটা হলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক হবে তাঁর। প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী থেকে বিহারের সর্বোচ্চ শাসকের আসনে হবে পদোন্নতি।
জাতীয় রাজনীতিতে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে একটা রসিকতা চালু আছে— রামবিলাস পাসোয়ান কোন জোটে যাচ্ছেন, তা দেখে ভোটের আগেই বলে দেওয়া যায়, কারা সরকার গঠন করবে। সেই রামবিলাস পাসোয়ান প্রয়াত হয়েছেন কয়েক দিন আগেই। তাঁর দল এলজেপি-র রাশ ছেলে রামবিলাসপুত্র চিরাগের হাতে। চিরাগ এ বার কারও সঙ্গে জোট না করেই ভোটের ময়দানে নেমেছেন। বাবার অনুপস্থিতি এবং একলা চলো নীতিতে চিরাগের ফল কেমন হল, তার দিকেও নজর থাকবে দেশবাসী এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। আনন্দ বাজার পত্রিকা


