সন্ধান২৪.কম ডেস্ক ঃ গত দু’মাসে বাংলাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৪৫১ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছে ১২ শিশু। তাদের মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুতে বাংলাদেশে উত্তরোত্তর আতঙ্ক বাড়ছে। দু’মাসের মধ্যে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। দেশের চিকিৎসক সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেল্থ অ্যন্ড এনভায়রনমেন্ট’ এই পরিস্থিতির জন্য মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, ইউনূসের সরকার টিকাকরণের বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চায়নি।
আট শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ ধরা পড়েছিল। প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গোটা দেশে এখনও পর্যন্ত এক হাজার ১৯২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে। হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ শিশুর শরীরে।
চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুতে বাংলাদেশে উত্তরোত্তর আতঙ্ক বাড়ছে। দু’মাসের মধ্যে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। দেশের চিকিৎসক সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেল্থ অ্যন্ড এনভায়রনমেন্ট’ এই পরিস্থিতির জন্য মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, ইউনূসের সরকার টিকাকরণের বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চায়নি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক এমএইচ ফারুকী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাধারণত ৯ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়। সঠিক সময়ে সঠিক টিকা নেওয়া থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। আক্রান্ত হলেও মারাত্মক আকার ধারণ করে না। চিকিৎসক ফারুকীর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছিল। আগের সরকারের সময় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুদের ছ’মাস অন্তর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এই কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে হামের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিগত সময়ে শিশুরা টিকা পায়নি, যার কারণে হামের এতো প্রাদুর্ভাব হয়েছে। বিগত সময়ে কেন শিশুরা পায়নি, এটা নিয়ে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। যে দাবিটা মিডিয়ায় বেশি করা হচ্ছে, টিকা কিনতে পারেনি। কথা কিন্তু তা নয়, টিকা আগে থেকে কেনা ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যখনই হামের প্রাদুর্ভাব হলো তখনই দু-চার দিনের মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। টিকা আলু-পটলের মতো নয়, চাইলেই কিনে ফেললাম, তা নয়। অর্ডার দেওয়ার পর টিকা তৈরি হয় এবং পরে পাঠায়। আর প্লেনে পাঠালেই দুই বা তিন সপ্তাহ সময় লাগে। এটা প্রমাণ হয় টিকা ছিল। টিকা থাকলে বাচ্চারা পেল না কেন? এটা হলো প্রশ্ন।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মাঠপর্যায়ে টিকা পৌঁছাতে পরিবহন ও পরিচালন ব্যয়ের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যা কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
অধ্যাপক ডা. আব্দুস সবুর বলেন, ‘এখন টিকা ঢাকার মহাখালীতে থাকলে হবে না। সেই টিকা যেতে হবে উপজেলা পর্যন্ত। যাতায়াতের জন্য গাড়ির যে তেল খরচ, তেলের টাকা ছিল না। এখন তেলের টাকা কেন ছিল না? আগে টাকার সংস্থান হতো সেক্টর প্রোগ্রামের আওতায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয়। বিকল্প কিছু না রাখায় গাড়ির তেলের টাকা ছিল না এবং গাড়ি চলেনি। সেইসঙ্গে টিকা উপজেলায় যায়নি।
