দেহ-মন সতেজ ও উৎফুল্ল রাখতে গ্রিন টি

চা একটি জনপ্রিয় পানীয়। হোক সেটা বন্ধুমহলে বা ঘরোয়া আড্ডায়। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে দিতে চায়ের জুড়ি নেই। চা মূলত- ক্যাসেলিয়া সিনেনসিল উদ্ভিদের পাতা। চা যদি পানই করতে হয়, তবে গ্রিন টি কেন নয়? বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রিন টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ গ্রিন টি দেহ ও মনকে সারা দিন সতেজ ও উৎফুল্ল রাখে।

গ্রিন টিতে পলিফেনল ফ্লাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই আছে। যা চা তৈরির পরও অক্ষুণ্ন থাকে। ফলে দেহের ওপর এর গুণাগুণ বেশ কার্যকর হতে দেখা যায়।

গ্রিন টি ক্যানসাররোধী ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সারা দিনে চার কাপ পরিমাণ গ্রিন টি পান করলে হৃদরোগে মৃত্যু ঝুঁকি কমে ৬৮ শতাংশ। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের মেদ কোষে গ্লুকোজ ঢুকতে পারে না। ফলে ডায়াবেটিস যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকে, তেমনি ওজন কমতেও সহায়তা করে। আবার কোলেস্টরলের মাত্রাও কম থাকে।

নিয়মিত গ্রিন টি পানকারীদের দন্তক্ষয় রোগ হওয়ার প্রবণতা অনেক কমে যায়। এই চায়ের সঙ্গে দুধ মেশানো উচিত নয়। এতে এর স্বাদ নষ্ট হয়। এক কাপ কফির তুলনায় এক কাপ গ্রিন টি বেশ স্বাস্থ্যকর। এতে ক্যাফেইন কম থাকে বলেই শরীর সতেজ থাকে। এর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধমনিতে ক্ষতিকর উপাদান জমা হওয়ায় গতি কমিয়ে দেয়।

যখন পান করবেন গ্রিন টি

সকালের নাশতার পর
খালি পেটে গ্রিন টি খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। সুতরাং সকালের নাশতায় স্বাস্থ্যকর কোনো খাবার খেতে হবে এবং এরপর গ্রিন টি পান করবেন।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ২ ঘণ্টা আগে
রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে গ্রিন টি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। তবে অনেক সময় তা ঘুম নষ্ট করতে পারে, এ জন্য ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগেই চা পান করতে হবে। এরপরও যদি ঘুমের সমস্যা হয়, তবে তা বাদ দিতে হবে এবং দিনের অন্য সময় তা পান করতে হবে।

ব্যায়াম করার আগে
ব্যায়াম করার আধা ঘণ্টা আগে গ্রিন টি পান করলে যেমন শরীরের মেটাবলিজম বাড়বে, তেমনি কর্মদক্ষতা বাড়বে। ফলে ওজন এবং মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই চা পান করেন। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পরে অথবা আগে গ্রিন টি পান করুন।

Exit mobile version