সন্ধান২৪.কম : কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ৪৫ দিনের মাথায় মামলার রায় হয়েছে, যেখানে ওই মাদ্রাসার সুপারের আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়। একই সঙ্গে তার এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সি মো. মশিয়ার রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত আব্দুল কাদের (৪২) মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেছা মহিলা আবাসিক মাদ্রাসার সুপার।

দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন- মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেছা মহিলা আবাসিক মাদ্রাসার সুপার আব্দুল কাদের (৪২)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের একটি আবাসিক মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদের দু’দফায় ধর্ষণ করেন। ঘটনার পরদিন ৫ অক্টোবর ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় ঐ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগে মামলা করেন।
মামলাটি মাত্র ৮ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করে দ.বি. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইন-২০০০ ৯এর(১) ধারায় ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিতসহ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগমাত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আতিকুর রহমান।
কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম দেশের বিচারাঙ্গনের ইতিহাসে এই স্বল্প সময়ের রায় ঘোষণা বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, গত ৫ নভেম্বর রবিবার মিরপুর থানার আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলাটির চার্জ গঠন করে ওই দিনই অধিকাংশ সাক্ষীর সাক্ষ্য শুনানি, আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তি, ভুক্তভোগীর ২২ ধারায় দেয়া জবানবন্দি, ডাক্তারি সনদ, জব্দকৃত আলামত, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শেষ করেন আদালত।
গত তিন দিনের মধ্যে সাক্ষ্য শুনানি শেষে আসামি মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন (আমৃত্যু) কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত।