নাপিত-চিকিৎসক বিয়ে: গণমাধ্যমে এনে পুলিশের মানবাধিকার ‘লঙ্ঘন’

সন্ধান২৪.কম : রংপুরের এক নারী চিকিৎসক এক সেলুন কর্মচারীকে বিয়ে করা নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। 

রংপুরে নারী চিকিৎসক ও সেলুন কর্মচারীর বিয়ের পর তাদের আটক করে । সংবাদ সম্মেলনের সময় নারী চিকিৎসক ও সেলুন কর্মচারীকে  গণমাধ্যমে এনে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন বলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মনে করছে।

এই দম্পতিকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুলিশ তাদের গণমাধ্যমে আনতে পারে কিনা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রংপুর নগরীর সেনপাড়ার বাসিন্দা ওই নারী একজন গাইনি চিকিৎসক। এই সেলুন কর্মচারীকে বিয়ে করার পর ২১ মাস ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুরে চাঁন মিয়া হাউজিংয়ে স্বামী ও এক শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন।

ওই নারীর বাবার করা অপহরণ মামলায় গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে তাকে ‘উদ্ধার’ এবং তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে রংপুর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) । পরদিন (২২ ডিসেম্বর) রংপুর নগরীর কেরানীপাড়ায় সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের হাজির করা হয়। রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস ওই সংবাদ সম্মেলন করেন।

২১ মাস আগে এই দুজন বিয়ে করেন। তখন চিকিৎসক নারীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। গত ২১ ডিসেম্বর পুলিশ তাদের আটক করে গণমাধ্যমে হাজির করে। পরে নারী চিকিৎসককে ছেড়ে দিলেও তার স্বামীকে ওই মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনি প্রক্রিয়ায় আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে বর্তমান স্বামীর (সেলুন কর্মচারী) সংসারে ‘সুখে ছিলেন’ বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।

এই নারী চিকিৎসক বলেন, “আমি তো আমার সংসারে সুখে ছিলাম, বাবা তো আমার মানসম্মান কিছুই রাখলেন না। বাবার তো আমি কোনো ক্ষতি করি নাই। তিনি কেন এমনটি করলেন আমার জানা নেই।”

স্বামীর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি জানি না কোর্ট কেন তাকে আটক করে দিল। আমি তো কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছি, সব বলেছি; তারপরও ওকে কেন আটক করল, আমি জানি না।”

এই নারীর আগের স্বামীর ঘরে একটি সন্তান রয়েছে, পরের স্বামীর ঘরে আরেকটি সন্তান হয়।

আটক সেলুন কর্মচারীর ছোট ভাই বলেন, “আমার ভাইকে তো উনি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন, আমার ভাই কী অপরাধ করেছে, যার জন্য আজ তাকে জেল খাটতে হচ্ছে?”

পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’ রংপুর জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম  বলেন, সংবিধানে বলা আছে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং নারী যে কাউকে পছন্দ মতো বিয়ে করতে পারে। আইন তাদের আটকে রাখতে পারে না। তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক; পছন্দ মতো বিয়ে করেছে। এখানে ধর্ম, গোত্র, বর্ণ কোনো ধরনের বাধা থাকবার কথা নয়।

“এক্ষেত্রে রংপুর সিআইডির এসপি মহোদয় যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা মানবাধিকারবিরোধী। সংবিধানে যে মানবাধিকারের কথা বা মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা তিনি লঙ্ঘন করেছেন।”

এই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনরে উপ-পরিচালক সুস্মিতা পাইক  বলেন, “আমরা আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে জানার পর আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে কমিশন থেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ গ্রহণ করেছি।”

তিনি বলেন, “একজন নারী কাকে বিয়ে করবেন, এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমাদের সংবিধান, মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র, সমস্ত জায়গাতেই নারীকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কাকে নিয়ে বাঁচবে এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

Exit mobile version