সন্ধান২৪.কম : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে মোনাজাত চলাকালে এয়ারকন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণে প্রায় ৫০ জন মুসল্লি দ্বগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অনেক মুসলিস্নর শরীরের বেশিরভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আহতদের অনেকের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। আমাদের মেডিকেল সংবাদদাতা সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে অনেকেই মৃতু্যযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দ্বগ্ধদের মধ্যে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল মালেক এবং মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন বয়সের মুসল্লি রয়েছেন। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফতুলস্নার পশ্চিমতলস্না এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দ্বগ্ধদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড পস্নাস্টিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশংকাজনক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণে মুহূর্তে মসজিদের ভিতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দ্বগ্ধ হন অনেকেই। ভীতিকর অবস্থায় মসজিদ হতে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে বেশকিছু মুসলিস্ন আহত হয়েছেন। মসজিদের ফ্লোর রক্তে ভেসে যায়। ফ্যানগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। এদিকে বিস্ফোরণে মসজিদের ২ টনের ৬টি এসির সব যন্ত্রাংশ বেরিয়ে গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এশার নামাজ শেষে হুজুরের মোনাজাত চলাকালে মসজিদের এসিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মসজিদে প্রায় অর্ধশত মুসলিস্ন ইবাদতরত ছিলেন। আর বিস্ফোরণে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় অনেককে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চারিদিকে কান্নার রোল আর আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে দায়িত্ব পালনরত নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুলস্নাহ আরেফিন জানান, মসজিদের এসি বিস্ফোরণে অনেকে দগ্ধ হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে মসজিদের পাশে একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর মসজিদের এসিও বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এখনো মৃতু্যর সংবাদ পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণে ৩৫-৪০ জন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।