নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের মারামারিতে দুইজন গ্রেপ্তার ও একজন হাসপাতালে, ঘটনায় সোসাল মিডিয়ায় ঘৃণার ঝড়

সন্ধান২৪.কম : নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে হাতাহাতি- মারামারির  ঘটনা ঘটেছে। এতে একজনকে নিউইয়র্ক পুলিশ গ্রেফতার করে এবং আর একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

একটি সুত্র থেকে জানা যায়, ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সিদ্দিকুর রহমান সমর্থক ও তার বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্য এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পিছনে ড.  সিদ্দিকুর রহমানের ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গ্রুপের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সোসাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে,ছড়িয়ে পড়েছে ঘৃণার মন্তব্য। এদিকে এই মারামারির ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

আগষ্টের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মাস জুড়ে শোক পালন করতে গত ৩ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কের জ‍্যাকসন হাইটসে উপস্থিত হয়।  এসময় ছাত্রলীগ নিজেরাই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। দুই গ্রুপের মারামারিতে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠে ।এতে চিকিৎসার জন্য ছাত্রলীগ নেতা শিহাবকে  রক্তাক্ত অবস্থায় হসপিটালে পাঠানো হয় এবং অন্যজন  ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিদয় মিয়া ও  সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ স্টেশন নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় সোসাল মিডিয়ায় ঘৃণা জানিয়ে অনেকে তাদের মত প্রকাশ করেছেন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো:

ফেসবুকে জামাল হোসাইন মন্তব্য করেছেন, ‘প্রবাসের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কোনো নতুন বিষয় নয়। বিশেষ করে সিদ্দিকুর রহমান সাহেবের আমল দল এমন এক জায়গায় গিয়েছে , যেখানে বিরোধী শিবিরের চেয়ে নিজেদের ভেতরের গ্রুপিং আর কাদা ছোড়াছুড়িই ছিল প্রধান দৃশ্য। প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করার চেয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ টিকিয়ে রাখাটাই উনার রাজনীতির বৈশিষ্ট্য, যা বারবার প্রবাসীদের সামনে প্রমাণিত হয়েছে। আর কত দিন চলবে!’

সৈয়দ খালেদ হোসেন-‘হা হা হা …. বাকশিয়ালের হুক্কা হুয়া …. পরিবারতন্ত্রের পাইক-প্যায়দা-গোলামরা তাদের অপকর্মের জন্য দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে এসে বিদেশের মাটিতেও কামড়া কামড়ি শুরু করে দিয়েছে।” …

আরিফিন হোসেন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান একটা আবর্জনা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে।’

উজ্জ্বল মৃধা- ‘সত্যিই দুঃখজনক এই মুহূর্তে এমন ঘটনা আশা করা যায় না আমরা চাই নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক এবং জন নেএী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোক। দেশের এই ভয়াবহ অবস্থার আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

সিতু চৌধুরী- ‘কামড়া কামড়ি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গেছে।’

ফরহাদ মাহমুদ- ‘দেশে আসি হেডম দেখান আপনারা’

মিজানুর রহমান- ‘ঢেকি স্বর্গে গেলেও তার চরিত্র বদলায় না।’

শাহীন আহমেদ- ‘দেখে মনে হয় প্রাগৈতিহাসিক কোন লোকদের কথাবার্তা শুনছি। সেই মানুষ পুজার একই শ্লোগান ??? ব্যক্তিপুজার দিন শেষ এরা এখনো বুঝছে না??’

শেখ পলাশ-‘ডলার দিয়ে পদ কিনলে এমনটা তো হবেই, এই জন‍্য নেএী সব সময় বলতেন পরিবারের খোঁজ নিয়ে তারপর যোগ‍্য মানুষকে পদ দিতে, আফসোস ত‍্যাগীরা সব সময় অবহেলিত।’

কাইয়ুম প্রধান- ‘মারামারির মূল কারণ চাঁদার টাকা সহ কাঙালী ভোজের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। যাহা অনাকাঙ্ক্ষিত অনভিপ্রেত।’

আব্দুর রউফ- ‘আওয়ামীলীগ মানেই গুপ্ত/সুপ্ত  তারা নিজেদের লোকই চিনে না, মানে না।”

ফারুক হক-‘এমন কামড়াকামড়িতে দল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে।’

রফিক ইসলাম-‘শোকের মাসেও এমন হয়*** মারামারি এটা মানা যায়না’

মাসুদ রানা- ‘এখানেও গুপ্ত জামাত ঢুকে গেছে কিনা খতিয়ে দেখার আহবান জানাচ্ছি’

রেজাউল ইসলাম হেলাল- ‘চমৎকার আয়োজন। তোরা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে তোদের এই খাসলাত ছড়িয়ে দে। প্রত্যেক মাসেই এরকম আয়োজন করিস ভাই।”

এদিকে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পক্ষে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হামিদ  একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে   ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীদের শান্ত ও ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। । এ অনাকাঙ্খিত ঘটনায় যারা জড়িত তদন্ত করে দলের গঠনতন্ত্র  অনুযায়ী  সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

Exit mobile version