সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন: এই মে মাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিউইয়র্কে দুটি বইমেলা হয়ে গেল। একটি ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বই মেলা ’ এবং অপরটি ‘আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’। একটি ড.নুরন নবী এবং অপরটি বিশ্বজিৎ সাহার নেতৃত্বে।
বইমেলা—শব্দটির সঙ্গে একধরনের আবেগ, ভালোবাসা ও সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ জড়িয়ে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে—বইমেলা কি এখন শুধুই আড্ডা-বিনোদনের জায়গায় পরিণত হয়েছে?
একটি বইমেলা ভেঙ্গে দুটি বইমেলা সৃষ্টি হওয়ায় নিউইয়র্ক কমিউনিটিতেও ভাঙনের সূচনা হয়। এই ভাঙন এখন ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে ,উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুই মেলার সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব বেড়ে গেছে।এবারের বইমেলাকে কেন্দ্র করে সুবিধাবাদী, নিরপেক্ষ. কট্টর ও ‘বিশেষ শ্রেণী’ এই চার প্রকার দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি দেখা গেছে।
সন্ধান২৪.কম‘র পাঠকদের উদ্দেশ্যে চার প্রকার দর্শক-শ্রোতার বিবরণ দেয়া হলো:
সুবিধাবাদী : হাইগ্রেড লেভেলের সুবিধাবাদীরা দুই বইমেলায় অংশ নিয়ে সুবিধা নিতে মুন্সীয়ানা দেখিয়েছে । এরা দুটি বইমেলার বিভিন্ন কর্মসূচীতে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভাবে অংশগ্রহন করে ‘গাছের আগা খেয়ে তলারটা কুড়িয়েছে’। এদের কোন আদর্শ-নীতি ছিল না। দুই বইমেলার আয়োজকদের মন রক্ষা করেছে। এরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়,ব্যর্থতার দায় নিতে চায় না তবে সফলতার সময় সেই সাফল্যের অংশীদার হতে চায়। এমন অনেক সুবিধাবাদী ব্যক্তি ও সংগঠন দুটি বইমেলায় ছিল।
নিরপেক্ষ: এদের কোন নীতি-আদর্শ থাকে না। এদের কথা হলো,আপনার ‘পাঁঠার আগা কাটবেন না লেজ কাটবেন’ সেটা আপনার ব্যাপার। আমরা শুধু মজা লুটতে যাব।
মেলায় প্রবেশ করলেই দেখা যায়, এরা বইয়ের স্টল ঘুরছেন, কিন্তু তাদের প্রধান উদ্দেশ্য বই কেনা নয়, বরং সুন্দর লোকেশনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা।
বইমেলায় প্রবেশ করলেই বোঝা যায়, এদের ভিড় আছে, কিন্তু বইপ্রেমী নয়। এসেছেন শুধুই ঘুরতে, ছবি তুলতে এবং সময় কাটাতে।
এমনকি নতুন লেখকদের বই হাতে নিয়ে ছবি তুলে পরে সেটি না কিনে রেখে দেওয়া। একজন নবীন লেখক যখন তার বইয়ের স্টলে দাঁড়িয়ে দেখেন, অনেকে শুধু বই হাতে নিয়ে ছবি তুলে রেখে দিচ্ছেন, তখন সেটি লেখকের জন্য বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে।
অবশ্যই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলা। কিন্তু যখন বইয়ের চেয়ে সেলফির গুরুত্ব বেশি হয়ে যায়, তখন বইমেলার মূল উদ্দেশ্য যেন কিছুটা হারিয়ে যায়।
তবে সমস্যা হয় তখনই, যখন বইয়ের প্রতি মনোযোগ কমে গিয়ে শুধু বিনোদন ও সেলফির দিকটাই মুখ্য হয়ে ওঠে। যদি দর্শনার্থীরা শুধু ছবি তুলেই চলে যান, বই কেনার আগ্রহ না দেখান, তাহলে সেটি বইমেলার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।
বিশেষ শ্রেণী : বিশেষ শ্রেণী’র কিছু মানুষ দুটি বইমেলায় যোগ দেয়। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ এবং বিশ্বজিৎ সাহা ও মহিতোষ তালুকদার তাপস নামের প্রতি বিশেষ দূর্বলতার কারণেই এরা দুটি বইমেলার অনুষ্ঠানে বিশেষ শ্রেণীর মানুষরা অংশ গ্রহন করে। এরা মঞ্চে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় টিভিতে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারের লাইম লাইটে আসার জন্য। এবং‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ এবং বিশ্বজিৎ সাহা ও মহিতোষ তালুকদার তাপসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য।
কট্টরবাদী : কট্টরবাদীরা অন্ধ সমর্থকের পরিনত হয়। এদের ভূমিকা হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ , প্রত্যক্ষ ও সুনির্দিষ্ট। এরা চোখ বন্ধ করে কোনও আদর্শও মতকে অনুসরণ করে। তেমনি ভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’নামের জন্য কিছু কট্টরবাদী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বই মেলাতে যোগ দেন। এরা মুক্তধারার বইমেলায় যান নাই। আবার অনেকে ড.নুরন নবীর প্রতি ‘এলার্জীর’ কারণে বঙ্গবন্ধুর ভক্ত হয়েও অনেক কট্টর ‘আওয়ামী লীগার’ এই বইমেলায় অংশ নেন নাই। ঠিক তেমনি ভাবে বিশ্বজিৎ সাহাকে ‘বিশ্বচিট’ তকমা দিয়ে অনেকেই মুক্তধারার বইমেলা বর্জন করেন। তবে মুক্তধারার বইমেলায় সব দল-মত ও স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের মানুষ অংশ নেন।
