সন্ধান২৪.কমঃ ২৯ এপ্রিল শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে নাগরিক সমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত পংকজ ভট্রাচার্যের শোক সভা।
পংকজ ভট্রাচার্যের রাজনৈতিক সহকর্মি অধ্যাপক মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস এবং সাবেক ছাত্রনেতা,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাকির হোসেন বাচ্চু সভা পরিচালনা করেন। সভায় সুব্রতি বিশ্বাসের লেখা তার সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক আলীম উদ্দীন।

সভায় বক্তব্য রাখেন,প্রোগ্রেসিভ ফোরামে সাবেক সভাপতি, খোরশেদুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাগর লোহানী, প্রথম আলো সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী, সংস্কৃতিজন মাহবুব রহমান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম , সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদের সেক্রেটারী সুব্রত তালুকদার, বিশিষ্ট সংগঠক শরাফ সরকার, লেখক-সংগঠক ওবায়দুল্লাহ মামুন,তোফায়েল চৌধুরী, এডভোকেট আখতারুল ইসলাম, এডভোকেট নাসির উদ্দিন, শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি মনিকা রায় চৌধুরী, আব্দুল্লাহ চৌধুরী ,রতন কর্মকার প্রমূখ।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য আমাদের ইতিহাসের উজ্জ্বল পুরুষ। বাঙ্গালীর লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসে যারা নিজেদের উজাড় করে দেয়া ঋদ্ধজন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি আত্মত্যাগী একজন রাজনৈতিক নেতাকে হারিয়েছে। পংকজ ভট্টাচার্যরা আদর্শিক রাজনীতি করতেন। সারাটা জীবন লড়াই করেছেন জনগনের মুক্তির জন্য। ক্ষমতা দেখার জন্য নয়। বর্তমান বাংলাদেশে পংকজ ভট্রাচার্যের মতো বিশুদ্ধ রাজনীতিক বিরল । তিনি ছিলেন নির্লোভ রাজনীতির জীবন্ত প্রতীক।মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বিলীন হয়ে যেতে পারে না। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে,যতদিন শোষিত মানুষের লড়াই চলমান থাকবে,ততদিন এসব আত্মত্যাগী মানুষদের কর্ম প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে। নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
পংকজ ভট্টাচার্য ছিলেন সাংস্কৃতিক-সামাজিক, রাজনৈতিক সমাজ বদলের নির্ভীক সংগঠক ও কারিগর। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা । ছিলেন নির্লোভ নিঃস্বার্থ ও আদর্শের প্রতি আপোসহীন। ছিলেন আজীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমাজ বিনির্মাণের প্রতিশ্রতিশীল রাজনীতিক। প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন-সিপিবি গেরিলা বাহিনী গঠনের অন্যতম সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি, সামাজিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সংগ্রামী জননেতা ছিলেন পংকজ ভট্টাচার্য ।

৮৩ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কিছুদিন যাবৎ শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৭ এপ্রিল সোমবার তাকে রাজধানীর হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। গত ২২ এপ্রিল রোববার রাত ১২টা ২৮ মিনিটে পংকজ ভট্টাচার্য শেষ নিঃশ্বাসস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি শোক প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শোক প্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনারের পর পুস্তগোলা শ্মশান ঘাটে তাকে দাহ করা হয়।


