সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন : নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের চাঁদাদাতা,অতিথি ও কমিটির সদস্যদের অদ্ভুত আর বিচিত্র নামে ডাকা হয়।
এসব অনুষ্ঠানের অতিথি,পৃষ্টপোষক ও কমিটিতে যারা থাকেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, ব্যাংক-ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতী, চেক বাউন্স, বাসা ভাড়া না দেয়া,নারী কেলেঙ্কারীসহ নানা অভিযোগ আছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের কাছে সব চাঁদাদাতাদের কমন নাম হচ্ছে ‘মুরগী’।

যেমন কোন আয়োজক যদি তার অনুষ্ঠানের জন্য বড় কোন পৃষ্ঠপোষক পেয়ে যান তবে অন্যদের সামনে গল্প করে বলেন, আজ একটা ‘বড় মুরগী’ ধরতে পেরেছি।
এই রকম বড় মুরগী বাদেও যারা চাঁদা দেন তাদের বিভিন্ন বিশেষণে ভূষিত করা হয়। অবশ্য চাঁদা প্রদানকারীর টাকার পরিমান অনুষায়ী উপাধী মেলে। যেমন : আইকন স্পন্সর, গ্রান্ড স্পন্সর, টাইটেল স্পন্সর, ইভেন পার্টনার, গোল্ড স্পন্সর, পাওয়ার্ড বাই, ভিভিআইপি স্পন্সর ভিআইপি স্পন্সর, মেগা স্পন্সর , প্লাটিনাম স্পন্সর, ডায়মন্ড স্পন্সর, গোল্ডেন স্পন্সর, সিলভার স্পন্সর ,সৌজন্যে, মিডিয়া পার্টনার,স্টার স্পন্সর, স্পেশাল স্পন্সর ইত্যাদি শত নাম আছে।
এছাড়াও চাঁদা প্রদানকারী ও অন্যান্যদের যদি অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে রাখা হয়,তরে তাদের জন্যও রয়েছে নানান কিসিমের নাম ও পদবী। যেমনঃ গ্রান্ড উদ্বোধক, উদ্বোধক, চিফ গেষ্ট,স্পেশাল গেষ্ট, টাইটেল গেষ্ট, গেষ্ট অব অর্নার, প্রধান অতিথি,বিশেষ অতিথি,অতিথি, গ্রান্ড মার্শাল,মার্শাল,প্রধান বক্তা,বিশেষ বক্তা,বক্তা ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সব অতিথিরা মঞ্চে কোথায়, কোন চেয়ারে বসবেন তা নির্ভর করে কোন অতিথি কত ডলার ডোনেশন দিয়েছেন। শোনা যায় মঞ্চের চেয়ার দশ হাজার থেকে বিশ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য অদ্ভুত এক কমিটিও গঠন করা হয়। যেমন: অর্নার্যাবি চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান, চিফ কনভেনর, কনভেনর, কো-কনভেনর, প্রেসিডেন্ড, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মেম্বর সেক্রেটারী, চেয়ারম্যান ফিন্যান্স, ট্রেজারার, চিফ কোঅর্ডিনেটর, কোঅর্ডিনেটর,প্রধান সমন্বয়কারী, সমন্বয়ক ইত্যাদি।
এইসব কমিটির কার কি দায়িত্ব বা কি কাজ তা আয়োজকদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন যুক্তিসংগত উত্তর না দিয়ে বলেন, চাঁদা দেয়া মুরগীদের খুশী করতে কোন কোন পদে রাখতে হয় তাই বিভিন্ন পদ সৃষ্টি করা হয়।
একজন আয়োজক জানান, কমিউনিটিতে যারা নিজেদেরকে নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বা পরিচিত হতে চান তারাই পৃষ্ঠপোষক,অতিথি ও কমিটিতে থাকেন। তা ছাড়া অনেক কাঁচা পয়সাওয়ালারা এইসব পোষ্টার,ব্যানার বা ফটোকার্ড দেশে পাঠিয়ে আত্মিয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধবদের কাছে প্রমাণ করতে চান তিনি নিউইয়র্কে কত বড় নেতা হয়েছেন।
এই পদ-পদবীগুলো বাংলা ও ইংরেজি ব্যবহার করে তথাকথিত মুরগীদেরকে বোকা বানাচ্ছে। পাশাপাশি বোকা দর্শক-শ্রোতাদের ‘কানা’ হিসেবে হাইকোর্ট দেখানো হচ্ছে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কে এখন গো-হারে ‘ক্রেষ্ট বানিজ্য’ চলছে। এই ক্রেষ্ট কে কাকে দিচ্ছে, কে নিচ্ছে, কেন দিচ্ছে-নিচ্ছে তার কোন হদিস নাই। এমনও জানা যায়, ক্রেষ্ট প্রদানকারী ও গ্রহিতাকে নিজের পয়সা দিয়ে এসব ক্রেষ্ট তৈরী করে নিতে হয়।
এ ব্যাপারে সর্বজনগ্রহনযোগ্য একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন,নিউইয়র্কের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি,পৃষ্টপোষক ও কমিটিতে যারা থাকেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, ব্যাংক-ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতী, বাসা ভাড়া না দেয়া,নারী বিষয়ক কেলেঙ্কারীসহ নানা অভিযোগ আছে। এইসব ঘৃণিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডেকে সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে আমাদের সুস্থ্য সংস্কৃতিকে ধংস করে দেয়া হচ্ছে। আর এইসব দূর্বৃত্তদের উত্পাতে শিক্ষিত, শিক্ষা-শিল্প-সাহিত্যে অবদান রাখা জ্ঞাণী- গুণী ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হচ্ছেন।


