নিউইয়র্কে বেড়ে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম

সন্ধান২৪.কম: গত কয়েক মাস ধরে নিউইয়র্কে বেড়ে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। মাস, মাংস,তেল,চাল,ডাল চিনিসহ ভোজ্যপণ্যের দাম বাড়ায় বেসামাল হয়ে পড়েছে নি¤œ আয়ের ক্রেতারা।

পেঁয়াজ, রসুন, শাকসবজি, ফলমূল,এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম বাজারে কী কারণে বাড়ছে, তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য হচ্ছে না।

সাধারণত বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মনে হয় না, সেখানে সরবরাহের ঘাটতি আছে। তারপরও প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।

এমনকি শীতকাল একদম কাছাকাছি চলে এলেও শীতের সবজির দাম তো কমছে না, উল্টো বাড়ছে।  যার ফলে নাভিশ্বাস সাধারণ আয়ের মানুষের।

একজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন স্বল্প আয়ের মানুষরা। এইসব খেটে খাওয়া মানুষেরা কিভাবে এই বর্ধিত মূল্যের সাথে খাপ খেয়ে চলবেন ? জিনিসের দামের সাথে মিল রেখে তাদের শ্রমের মূল্য তো আর বাড়েনি।

যে হারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে তাতে ক্রমশ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিউইয়র্ক শহরের সব দোকানেই গত কয়েক মাসে আলু পেঁয়াজ,আদা, লঙ্কা,যেকোনো সবজির দাম প্রতি পাউন্ডে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ সেন্ট  বেড়ে গিয়েছে। মাছের দাম শতকরা ৫ এবং মাংসের দাম শতকরা ১০ ডলার বেড়ে গিয়েছে।

একজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশি কারণ হল- সঠিক ভাবে কোনো তদারকি হয়না এজন্য। সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটের মধ্যে ডুবে আছি আমরা। এমনও দেখা গেছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জিনিপত্রের দাম বাড়ানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়ছে খেটে খাওয়া নি¤œ আয়ের মানুষরা। তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণ করার  মতো কেউ নাই। ব্যবসায়িরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছামাফিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করে থাকেন।

জ্যাকসন হাইটসের খামার বাড়ির মালিক হারুন ভূঁইয়া জানান, কয়েক মাস আগেও একটি কন্টেনার আনতে যেখানে ব্যয় হতো ৩৮ শত থেকে ৪৫ শত ডলার। আর এখন সেখানে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ডলারে ঠেকেছে। এছাড়া কোভিডের কারণে উৎপাদনও অনেক কমেছে। যার ফলে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে।

আর এক বিক্রেতার দাবি, সরবরাহ কম, পরিবহন খরচ, গাড়ি ভাড়ার খরচ বেড়েছে। দাম বৃদ্ধিও কারণ হিসেবে করোনাকেও দুষছেন দোকানের মালিকরা।

সাধারণ ক্রেতাদের কথায়, জিনিসপত্রের দাম প্রতি দিন বেড়ে চলেছে কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। যার ফলে চরম আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে সাধারণ মানুষ।

Exit mobile version