
সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে পিকনিক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন ভুক্তভোগীরা। চাঁদাবাজীর খপ্পড়ে পরে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের মানুষ ।
সামার আসার সাথে সাথেই নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে পিকনিক বা বনভোজন। বিভিন্ন আঞ্চলিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এই পিকনিকের আয়োজন করে থাকে। আর এই সব পিকনিকের সিংহভাগ অর্থ আসে চাঁদা থেকে। সেই চাঁদা সংগ্রহ করা হয় নিউইয়র্কের পেশাজীবি-ব্যবসায়ী ও বিত্তবান মানুষদের কাছে।
একজন ডাক্তার অভিযোগের সুরে বললেন, প্রায় প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েই তার কাছে পিকনিকের চাঁদা আদায় করা হয়েছে। ওই ডাক্তার জানান, তার কাছে একটি আঞ্চলিক সংগঠনের কয়েকজন আসেন। তারপর বলেন, পিকনিকের চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা দিতে পারবেন না বলে, ডাক্তার জানালে, পিকনিক পার্টির কয়েকজন বলেন আমাদের কয়েকজন তো আপনার রোগী। চাঁদা না দিলে আমারা অন্য ডাক্তারের কাছে যাব। ফলে বাধ্য হয়ে ওই ডাক্তারকে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চাঁদা দিতে হয়েছে বলে জানান ওই ডাক্তার।
প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বললেন,জ্যাকসন হাইটসের একজন গ্রোসারী ব্যবাসায়ী ও জেবিবিএর একজন অন্যতম নেতা । তিনি বলেন, ‘চাঁদা দিতে দিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ টি পিকনিক পার্টিকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। না দিলে এ দোকানে আর ঢুকবেন না, বাজার খরচ করবেন না।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কি করবো,চাঁদা না দিলে কাস্টমার হারাতে হবে। আর দিলে ব্যবসা লাটে উঠবে। আমরা ব্যবসায়ীরা উভয় সমস্যার মধ্যে পড়েছি।
জামাইকার একজন পেশাজীবি বলেন, ভাই, চাঁদাবাজীর অত্যাচারে প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করে দিয়েছি। পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে । আসলেই পিকনিরেক চাঁদার জন্য হামলে পড়ে এক বা একাধিক সংগঠন।
জ্যাকসন হাইটসের আর একজন হোম কেয়ার ব্যবসায়ী সন্ধান প্রতিনিধি বলেন, এখন ফোন আসলেই ধরতে ভয় করে। বুক ধুক্পুকু করে। আতঙ্কে ভুগি, এই বুঝি কেউ পিকনিকের জন্য কিছু অর্থ দাবী করে বসবে।
এমনি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী.পেশাজীবি ও বিত্তবানদের নিকট থেকে প্রতিদিন পিকনিক পার্টি চাঁদা আদায়ের জন্য মাঠে নামছে । জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ওজন পার্ক, ব্রকলিন, ব্রঙ্কস, এষ্টোরিয়াসহ বাংগালী অধ্যুষিত এলাকায় চলছে ‘নিরব পিকনিক সন্ত্রাস’।
আপনারা ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে চাঁদা আদায় করছেন কেন ? পিকনিকের চাঁদা সংগ্রহ করা দুটি সংগঠনের কাছে সন্ধানের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে তাদের সোজা-সাপ্টা উত্তর, সারা বছর আমাদের মাধ্যমে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। আর বছরে একবার কেন আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন না ?
আর একটি পিকনিক পার্টির একজন রসিকতা করে বলেন, আরে এই কমিউনিটিতে অনেকেই নয়-ছয় করে অবৈধ ভাবে প্রচুর টাকা ইনকাম করছে। সেখান থেকে কিছু খসাচ্ছি। তিনি হেসে বলেন ‘দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে‘ এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করেই চাঁদা না, পার্টির নিকট থেকে অনুদান নিচ্ছি।
পিকনিক পার্টির চাঁদা উঠানোর সংস্কৃতি আরও প্রায় একমাস চলবে। ততদিন আতঙ্কে থাকবে যারা চাঁদা দেন।