সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্কে অগনিত ভক্তের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে হলো সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম উৎসব বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা।স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি হিন্দু পূর্ণার্থীরা দলে দলে বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে পূজায় অঞ্জলি ও আরতীতে অংশ গ্রহন করেন।
ওম শক্তি মন্দির, সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ ইউএসএ ইনক, শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ইউএসএ, উত্তর আমেরিকা হিন্দু কল্যাণ সংঘ জ্যামাইকা নিউইর্য়ক, আমেরিকান বাঙালী হিন্দু ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, নিউইয়র্ক, হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ সেবা সংঘ নিউইয়কর্ ,শ্রী শ্রী রাধামাধম মন্দিরসহ আরো বেশ কয়েকটি মন্দির এবং কমিউনিটি সেন্টারে পুজার আয়োজন করা হয়।


সরস্বতী পূজা উপলক্ষে নিউইয়র্কে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। এই দিন ছোটোদের হাতেখড়ি দিয়ে পাঠ্যজীবন শুরু হয়। পূজা শেষে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। বিভিন্ন মন্দিরে ও প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের দল বেঁধে অঞ্জলি দিতে দেখা যায়। পূজার পর লক্ষ্মী, নারায়ণ, দোয়াত-কলম, পুস্তক ও বাদ্যযন্ত্রেরও পূজা করার প্রথা প্রচলিত আছে।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে সরস্বতীর মাহাত্ম্য যেভাবেই বা যে রূপেই তুলে ধরা হোক না কেন, বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতিতে সরস্বতীকে বিদ্যার দেবী হিসাবে পূজা করা হয়ে থাকে। বিদ্যার দেবী মানুষকে আলোকিত করে, মনুষত্বের চোখ খুলে দেয়।
হিন্দু সম্প্রদায় সরস্বতীর যে মূর্তি পূজা করে সেই সরস্বতীর রূপ দ্বিভূজা, শ্বেত বরণী, শ্বেতাম্বরা, শ্বেতদল বাসিনী, শ্বেত হংসবিহারিণী ও বীণা পুস্তক- কমলধারিণী।
সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা তাদের মনের সকল অন্ধকার, অজ্ঞতা দূর করার জন্য বিদ্যা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া তথা মানবিক হওয়ার জন্য।’ তিনি আরও বলেন এবারও বিশ্বথেকে মানবজাতির কল্যানে মহামারী করোনা মুক্তির বিশেষ প্রার্থনা করা হয় । জ্যাকসন হাইটসের ওঁম শক্তি মন্দির, উডসাইডের দিব্যধাম সেবাশ্রম মন্দির, কুইন্স প্যালেসে বীণাপাণি সংঘ, সত্যনারায়ন মন্দিরসহ ব্রঙ্কস, ব্রুকলীন ছাড়াও নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রায় ২০টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বাণী অর্চনা, নৃত্য,শঙ্খ ধ্বনি, ভক্তি সংগীত, আর প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
পঞ্জিকা অনুসারে, মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথির সূচনা ৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভোর রাত ৩ টে বেজে ৪৬ মিনিট থেকে হচ্ছে। পঞ্চমীর পরের দিন ৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাত ৩ টে বেজে ৪৬ মিনিট পর্যন্ত থাকবে।


