সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : পাকিস্তানের নাগরিকরা অবৈধ ভাবে বসবাস করছিলেন আয়ারল্যান্ডে। সেখানে থাকার কোনও বৈধ নথি ছিল না। তাই এক বিশেষ বিমানে তাদের ফের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ওই ফেরার ফ্লাইটে নাকি মুসলিম শরণার্থীদের খেতে দেওয়া হয়েছে শুয়োরের মাংসের তৈরি সসেজ! আইরিশ সংবাদমাধ্যম, ‘আইরিশ সান’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তার পরেই এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এই ঘটনাকে ‘অনভিপ্রেত’ এবং ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ।
কী ঘটেছিল ওই ফ্লাইটে?
‘আইরিশ সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বরে ২৪ জন পাকিস্তানি নাগরিককে আয়ারল্যান্ড থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ডাবলিন থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁদের ইসলামাবাদে পাঠানো হয়। তার আগে তিন রাত তাঁরা ছিলেন ডাবলিনের বিভিন্ন জেলে। ওড়ার দিন সকালে তাদের প্রাতরাশ দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই দেওয়া হয় পর্ক বা শুয়োরের মাংসের সসেজ।
আসলে পর্ক সসেজ প্রথাগত আইরিশ ব্রেকফাস্টের অংশ। আয়ারল্যান্ডের আধিকারিকরা অত্যন্ত যান্ত্রিক ভাবে তাঁদের নিজেদের দেশের প্রথাগত মেনু পরিবেশন করেছিলেন। তাঁরা মাথাতেই রাখেননি যে, ওই বিমানে যাঁদের পাঠানো হচ্ছে তাঁরা সকলেই মুসলিম এবং ইসলামের ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী শুয়োরের মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই প্রশাসনিক অসচেতনতার কারণেই আন্তর্জাতিক স্তরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ইসলামের ধর্মীয় নিয়মে নিষিদ্ধ এই খাবার দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলি। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন বা বহিষ্কার প্রক্রিয়ার সময়ে শরণার্থীদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দিকে নজর রাখা জরুরি। সমাজতাত্ত্বিকদের একাংশ বলছেন, বিমানের কেটারিং ব্যবস্থার এই ভুল আয়ারল্যান্ডের অভিবাসন নীতির মানবিক মুখকে কালিমালিপ্ত করতে পারে।
এ দিকে অবৈধ অভিবাসন রুখতে আয়ারল্যান্ড প্রশাসন এখন কঠোর পদক্ষেপ করছে। ২০২৩-২৫ সালের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ পাউন্ড খরচে বিমান চার্টার করে ২০০-র বেশি মানুষকে করে পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও জর্জিয়ায় ফেরত পাঠাতে হয়েছে। সংবাদ : এই সময় অন লাইন
