পদত্যাগপত্র জমা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ইতালিতে সংকট

ইতালিতে ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে গেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আস্থাভোটে জনপ্রিয় জোটসঙ্গী ফাইভ স্টার সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়ার পর বিপদে পড়ে যান দ্রাঘি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ঐক্যের সরকারে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের সাবেক এই প্রধান। মারিও দ্রাঘি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যে আস্থা ঐক্যের এই সরকারকে টেকসই করেছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। এসব বলে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেও প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তেরেলা তা গ্রহণ করেননি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, তাকে করোনা মহামারি পরবর্তী ইতালিকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। মারিও দ্রাঘির পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তাকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি পরিষ্কার চিত্র পার্লামেন্টে তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট যে হস্তক্ষেপ করেছেন তার প্রভাব কি তা পুরোপুরি জানা যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বুধবার পার্লামেন্টে যাবেন মারিও দ্রাঘি। সেখানে তিনি ক্ষমতায় থাকার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ওদিকে ফাইভ স্টার গ্রুপের নেতা গসেপি কন্টের অভিযোগ মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে যে সংকট, তা মোকাবিলায় মারিও দ্রাঘি যথেষ্ট করছেন না। তাই তারা সরকারের পরিবার ও ব্যবসায় খাতে ২৩০০ কোটি ইউরোর পরিকল্পনা প্যাকেজে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে রোমে এক নতুন রাজনৈতিক নাটকীয়তা দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার অন্য দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সিনেটে স্বস্তির সঙ্গে জয়ী হয় সরকার। ইতালিতে মারিও দ্রাঘিকে দেখা হয় ‘সুপার হিরো’ হিসেবে। তিনি বারবার সতর্ক করেছেন যে, ফাইভ স্টারের সমর্থন ছাড়া সরকার অব্যাহত থাকতে পারে না। এ নিয়ে প্রথমে প্রেসিডেন্ট মাত্তেরেলার সঙ্গে এক ঘণ্টা বৈঠক করেন মারিও দ্রাঘি। সেখানে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ তুলে ধরেন। উপস্থাপন করেন পদত্যাগপত্র। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ঐক্যের ওপর তার সরকার টিকে ছিল, তা আর টিকে নেই। মন্ত্রীদের সামনে বক্তব্য দেয়ার পর তিনি কুইরিনালে প্যালেসে ছুটে যান প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে। এ সময় মিডিয়ার ক্যামেরায় ধরা না পড়ার জন্য তিনি ওই প্রাসাদের প্রধান ফটক ব্যবহার করেননি। এমনিতেই ইতালিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৩ সালের শুরুর দিকে। তবে যদি সরকার ভেঙে যায়, তাহলে এই শহরে হতে পারে ভোট। আগাম নির্বাচনের পক্ষে সেখানে বেশ কয়েকটি দল। কিন্তু তাতে দেশে আসন্ন জ্বালানি সংকট ও আগামী বছরের বাজেট প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে ইতালির রাজনীতি এক অনিশ্চয়তায় পড়বে।

Exit mobile version