পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্বামীকে বেঁধে নির্যাতন, স্ত্রী-সন্তান আটক

সন্ধান২৪.কম: স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী সন্তান কর্তৃক অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি।

স্বামী আবুল হোসেন ওরফে আবু ভান্ডারীকে (৫৫)  বেদম প্রহারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই স্ত্রী ও তার ছেলেকে আটক করে। বর্তমানে মা ও ছেলে দু’জনই থানা হেফাজতে আছেন।

৬ সেপ্টেম্বর সোমবার  রাত ২টার দিকে চট্টগামের সাতকানিয়ায় কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ম্যাইঙ্গা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা গেছে- রশি দিয়ে বেঁধে টানতে টানতে মারধর করছেন তার স্ত্রী। কখনো কখনো ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার শরীরের ওপর উঠে গলা চেপে ধরছেন ছেলে।

জানা যায়, আবু ভান্ডারীর স্ত্রী শাহিনা আকতারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপুর ইউনিয়নের আলমগীর চৌধুরী বাড়ির আবদুল কাদের ওরফে কাদেরের পরকীয়ার সম্পর্ক চলে আসছিল।এরই মধ্যে গত কয়েকদিন আগে কাদের এবং শাহিন আকতারকে গোয়াল ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় স্বামী আবু ভান্ডারী দেখে ফেলেন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের বিচার দিলে কালিয়াইশ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক  ও শাহিন আকতারের চাচাত ভাই নুরুলসহ আরো কয়েকজন মিলে আপোষ মীমাংসা করে দেন। এ সময় উপস্থিত সালিশী মীমাংসাকারীরা কাদেরের কাছ থেকে আবু ভান্ডারীর বাড়িতে আর কখনো আসবে না মর্মে মুচলেকা নেন।

সালিশী মীমাংসার কয়েকদিন পর গত সোমবার রাতে পুনরায় কাদের শাহিনের ঘরে আসলে স্বামী আবুল হোসেন ওরফে আবু ভান্ডারী প্রতিবাদ করেন। এ সময় আবু ভান্ডারী পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় কাদেরের উপস্থিতিতে স্ত্রী শাহিন আকতার ও মায়ের পক্ষ নিয়ে ছেলে খাইরুল এনাম আবু ভান্ডারীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে হত্যার চেষ্টা চালান।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতিত আবুল হোসেন ওরফে আবু ভান্ডারীকে উদ্ধার করে। স্ত্রী শাহিন আকতার ও ছেলে খাইরুল এনামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আবু ভান্ডারীকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

মারধরের শিকার আবু ভান্ডারী বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সাথে প্রতিবেশী কাদেরের পরকীয়ার সম্পর্কটি জেনে আমি বাধা দিই। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেনি। বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার রাতে আবারও স্ত্রীর সাথে তর্ক হলে ছেলে ও স্ত্রী মিলে আমাকে দড়ি দিয়ে বেধে মারধর করে।’

 

Exit mobile version