পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে চীন-রাশিয়ার নতুন সমীকরণ

সন্ধান২৪.কম : আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। সেই তালিকায় প্রথমেই আছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম।

শুক্রবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিষয়টি দুই পক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই মুহূর্তে ইউক্রেন সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে রুশ সেনা। সেখানে আসন্ন আক্রমণের বিষয়টিই উসকে দিচ্ছে এই পরিস্থিত। আর এই ঘটনা যে চীনের অলিম্পিকের চেয়ে বেশি আগ্রহের বিষয় হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এছাড়া এই দুই নেতার মুখোমুখি সাক্ষাৎ বেইজিং-মস্কোর ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক যোগ করবে। কারণ পশ্চিমাদের সঙ্গে দুইদেশেরই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।

চীনের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমাদেশগুলো দেশটিকে কূটনীতিকভাবে বয়কট করেছে। এছাড়া অন্য দেশের প্রধানরা বেইজিংয়ের কঠোর কোভিড -১৯ নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুতিনসহ অল্প কয়েকজন বিশ্বনেতা অংশ নিতে যাচ্ছেন।

২০২২ সালের বেইজিং অলিম্পিকের এই চিত্র ২০০৮ সালে ওই শহরে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ সেবার তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশসহ পশ্চিমা নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। নিজ নিজ দলকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি চীনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সে সময় তাদের হাসিমুখে হাত মেলাতে দেখা গেছে।

এদিকে, ইউক্রেনে আগ্রাসন নিয়ে পশ্চিমাদের চাপের মুখে রয়েছে রাশিয়াও। পশ্চিমা যখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখন পুতিনের এই সফর দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সুসম্পর্কেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বেইজিং এবং মস্কো বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং সামরিক মহড়ার সমন্বয়ে তাদের অংশীদারিত্বকে আরও ঝালাই করে নিচ্ছে। তাদের এই সহযোগিতা কীভাবে পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থাকে পিছনে ঠেলে দিতে পারে তা নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠছে দুই দেশ। চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দুই দেশের নতুন এই মেরুকরণ নিসন্দেহে পশ্চিমা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হতে উঠতে পারে।

সূত্র : সিএনএন

Exit mobile version