সন্ধান২৪.কমঃ মাত্র ৭ দিনের নবজাতক কন্যাকে সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য হত্যা করা হয়েছে । ঘটনায় পুলিশ নবজাতককে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহ মা শ্যামলী ঘোষকে (৩৫) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মানিক ঘোষের স্ত্রী।
গত মঙ্গলবার (১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরে নবজাতকের লাশটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী । পরে তালা থানা পুলিশ গিয়ে পুকুর থেকে ওই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা নবজাতকের লাশটি ময়না তদন্তের জন্য বুধবার সকালে সাতক্ষীরা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালা উপজেলার রায়পুর গ্রামের মৃত বিষ্ণুপদ ঘোষের ছেলে মানিক ঘোষের স্ত্রী শ্যামলী ঘোষ গত ২৫ মে (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একটি কন্যা শিশু প্রসব করেন। পরদিন বুধবার থেকে তার স্বামী মানিক ঘোষ বাড়ির কাউকে কিছু না বলে নিরুদ্দেশ হয়। এরপর ৩১ মে সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় মায়ের কাছ থেকে নবজাতক শিশুটিও হারিয়ে যায়। পরদিন মঙ্গলবার (১ জুন) সকালে বিষয়টি প্রচার হলে টনক নড়ে এলাকাবাসীর। পরিবারসহ গ্রামের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় শিশুটিকে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং বিষয়টি প্রশাসনকেও অবগত করেন। এরপর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পুকুরে শিশুটির লাশ ভাসতে দেখে থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
জানা যায়, মানিক-শ্যামলী দম্পতির এর আগেও তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এবারও তাদের কন্যা সন্তান হয়েছে। যে কারণে হত্যা করা হতে পারে নবজাতকটি। প্রতিবেশিরা বলেছেন, ৪র্থ বারের মত মেয়ে শিশুর জন্ম হওয়ায় খুশি হতে পারেননি স্বামী মানিক ঘোষ। সংসার টেকাতে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে।


