সন্ধান২৪.কম : বাংলাদেশ পুলিশ দাবি করেছে, প্রজ্ঞা নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০০৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। অনলাইনে জিহাদিরা প্রজ্ঞাকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা। কিন্তু গীতা বা প্রদীপ সে কথা মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, সে সময়ে মেয়ের কোনও পরিবর্তন তাঁদের চোখে পড়েনি। তবে কলেজ যাওয়ার পর থেকে যে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মেয়ে জড়িয়ে পড়েছিল তা তাঁরা স্বীকার করেন। এলাকার বাসিন্দারাও বলেন, ‘‘প্রজ্ঞা কলেজে পড়ার সময় থেকেই বাইরের লোকজন আসা যাওয়া শুরু করে ওদের বাড়িতে। তার পর আমরা প্রতিবাদ করলে বাইরের লোকের আসা যাওয়া বন্ধ হয়।”
সংস্কৃত নিয়ে ধনিয়াখালি কলেজে পড়ছিল মেয়ে। দিনটা এখনও স্পষ্ট মনে আছে গীতা দেবনাথের। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় কলকাতা যাবে বলে বেরোয় মেয়ে। তার পর থেকে বেপাত্তা। বেশ কয়েক দিন পরে ফোন আসে অচেনা নম্বর থেকে। মাকে মেয়ে জানায়, সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। বিয়েও করেছে সেই ধর্মের এক ছেলেকে। তার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কিন্তু মেয়ে যে জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি বাবা-মা-আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশীরাও। আগে সংস্কৃুত পড়তো এখন কোরান পড়ে।
২০১৬ সালে যখন ফোন করে প্রজ্ঞা ইসলাম ধর্ম নেওয়ার কথা বলে, সেই সময়ে সে জানিয়েছিল যে, বাংলাদেশে রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের এই গ্রেফতারির পর প্রশ্ন উঠছে, আইএস এবং সম মনোভাবাপন্ন সংগঠনগুলির নিয়োগ রোখা বা নজরদারির দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়েও। একটি মেয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ চলে গেল এবং ইসলাম ধর্ম নিল, সেই খবর গোয়েন্দাদের কাছে কেন পৌঁছল না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পুলিশেরই একাংশ।


