প্রস্রাব ঝরে পড়ার কারণ ও করণীয়

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যাকে চিকিৎসকেরা ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স বলেন। অনেকেই এ সমস্যায় ভুগে থাকেন।

এটা একটি বিব্রতকর সমস্যা- বাথরুমে যাওয়ার আগেই প্যান্ট ভিজে যেতে পারে, এমনকি কাশি বা হাঁচি দিলেও প্রস্রাব ঝরে পড়তে পারে। হালকা প্রস্রাব ঝরে পড়াও দৈনন্দিন জীবনকে চ্যালেঞ্জিং করতে পারে। এখানে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ধরন, কারণ ও করণীয় সম্পর্কে বলা হলো।

ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ধরন

প্রস্রাব ধরে রাখতে পারছেন না? এর সমাধান করতে হলে আগে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ধরন শনাক্ত করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স রয়েছে- স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স, আর্জ ইনকন্টিনেন্স, মিক্সড ইনকন্টিনেন্স, ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স ও ফাংকশনাল ইনকন্টিনেন্স।

প্রস্রাব ঝরে পড়ার সমস্যা যাদের বেশি হয়

যে কারো ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স হতে পারে। তবে এসব মানুষদের ঝুঁকি বেশি- নারী, বয়স্ক মানুষ, ধূমপায়ী, প্রস্রাব ঝরে পড়ার পারিবারিক ইতিহাস, ডায়াবেটিস রোগী, এমএস রোগী, স্থূল ব্যক্তি ও স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষ।

ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের কারণ ও করণীয়

প্রস্রাব ঝরে পড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

যদি মনে করেন যে, কোনো খাবার বা পানীয়’র প্রভাবে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স হচ্ছে, তাহলে ওই খাবার বা পানীয় বাদ দিয়ে দেখতে পারেন। যদি ধারণা করেন যে, ওষুধের কারণে প্রস্রাব ধরে রাখতে পারছেন না, তাহলে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তিনি আপনাকে বিকল্প ওষুধ দিতে পারেন অথবা প্রস্রাব ঝরে পড়ার প্রকৃত কারণ শনাক্তকরণের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চা প্রসবের পূর্বে ও পরে পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ ও কেগেল এক্সারসাইজ করলে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স কমবে। কারণ, এসব এক্সারসাইজ ব্লাডার নিয়ন্ত্রণকারী পেশিসমূহকে শক্তিশালী করে। এসব এক্সারসাইজ শিখতে ইউটিউবের ভিডিও দেখতে পারেন।

প্রোস্টেটের বৃদ্ধি প্রধানত দুইভাবে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স ঘটিয়ে থাকে- এটি ব্লাডারে চাপ দিয়ে প্রস্রাব নির্গত করায় এবং এটি প্রস্রাবের প্রবাহে সাময়িক বাধা দিয়ে ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্সের দিকে ধাবিত করে। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারেন। ওষুধে কাজ না হলে আপনার চিকিৎসক সার্জারি বিবেচনা করতে পারেন।

Exit mobile version