ফারুকির কাছে পরাস্ত হয়ে লজ্জিত নন তামিম

সন্ধান ২৪.কম:আফগানদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গণমাধ্যমে লিটন দাসের রসাত্মক প্রশ্ন, ‘আমরা কি সিনিয়র হচ্ছি না’? পাঁচ বছরের ওয়ানডে অভিজ্ঞতায় লিটনের হাত যে পরিপক্ক হচ্ছে, তা তার ব্যাটিং দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল কি হারিয়েছেন পরিপক্কতা? আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টাইগার অধিনায়কের অফফর্ম অন্তত সেটাই জানান দেয়। তাও তিন ম্যাচে একই বোলারের অভিন্ন ডেলিভারিতে। টানা ব্যর্থতায় হতাশ তামিম। তিন ম্যাচে যার গতিতে কুপোকাত হয়েছেন, সেই ফজলহক ফারুকির প্রশংসা করেছেন তামিম। একই সঙ্গে নিজের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে তামিমকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ২১ বছর বয়সী ফারুকি। শেষ ম্যাচে করেন বোল্ড। তিন ম্যাচেই ফারুকির আক্রমণ ছিল প্রায় একই ধাঁচের।

আফগান তরুণের গতিতে তামিম আউট হন ৭, ১২ ও ১১ রানে। গোটা সিরিজে তামিমের সংগ্রহ মাত্র ৩১ রান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বি-পক্ষীয় সিরিজে ৩ ইনিংস খেলে এর চেয়ে কম রান করেছেন তিনি তিনবার। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৪ রান করেন তামিম। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে ১০ রান করেন। একই বছর শ্রীলঙ্কায় ৩ ম্যাচে করেন মাত্র ২১ রান।

গণমাধ্যমকে তামিম বলেন, ‘আমার লম্বা ক্যারিয়ারে খুব কম সময়ই এমন হয়েছে। আমি হতাশ। বিশেষ করে আমার কাছে মনে হয়, এক বোলারের বলেই বারবার… এটা মেনে নেয়ায় লজ্জার কিছু নেই যে, সে আমাকে হারিয়ে দিয়েছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

তামিম বলেন, ‘একই ধরনের ডেলিভারিতে তিনবার আউট হয়েছি বলেই যে কাজ করতে হবে, এমন নয়। কারণ ওই জায়গায় আমি অনেক রানও করেছি। হয়তো আমাকে আরেকটু ভালো করতে হবে। একটু ভালো হতে হবে। আর এটা নিয়ে আমি কাজ করে যাব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে, আমি সবসময় বলে এসেছি, কাজ করে যেতে হবে, করে যেতেই হবে। কাজ করতে থাকলে এতে ভালো হয়ে উঠবেনই।’

দলের স্কোরবোর্ডে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারায় হতাশ তামিম। তিনি বলেন, ‘আউট হওয়ার ধরনের চেয়ে আমি বেশি হতাশ যে দলে অবদান রাখতে পারিনি। ওটা নিয়ে দুর্ভাবনা বেশি নেই আমার, কারণ এই জায়গাটায় আমি আগেও আউট হয়েছি, অনেক রানও করেছি। তবে গোটা সিরিজে রান না করা ও তিনবার আউট হওয়া হতাশাজনক। কারণ নিজের ব্যাটিংয়ে আমি অনেক গর্ব খুঁজে নেই এবং নিজের কাছে নিজের ব্যাটিংয়ের মানদ- অনেক উঁচুতে। হতাশাজনক হলেও এটাই ক্রিকেট। এটা নিয়েই এগোতে হবে। এখানেই শেষ নয়।’

Exit mobile version