ফোনে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর,রাষ্ট্রপতির সাথে ঈদের শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আনিস আলমগীর

সন্ধান২৪ডট কম ডেস্ক : সদ্য কারামুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আনিস আলমগীর।

শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হওয়ার কথা জানিয়েছেন আনিস আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে বেশ অবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। আমি খুব সারপ্রাইজড। তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কারাগারে থাকার কথা শুনেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে উল্লেখ করে আনিস আলমগীর আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানিয়েছি। তিনি আজকে ঈদের নামাজে যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি দেখিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে তারেক রহমান অতীতে নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেননি।’

এর আগে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আনিস আলমগীর।

এই শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর আনিস আলমগীর তার ফেসবুকের পাতায় মন্তব্য করেন,‘ বর্তমান রাষ্ট্রপতির কাছেই শপথ নিয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন ড. ইউনুস। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে একদিনের জন্যও প্রাপ্য সম্মান দেননি- জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। ১৪ বার বিদেশ সফর শেষে প্রথা অনুযায়ী একবারও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি ইউনুস। বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে অবৈধভাবে তার ছবি নামিয়ে ফেলেছেন।

অথচ কথিত জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অধিক মর্যাদা ও দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিজে যা পালন করেন না, বিশ্বাস করেন না, সেটাই অন্যের কাছে প্রত্যাশা করেন বিশ্ব বাটপার ইউনুস এবং তার গোলামরা। এমন দ্বিচারিতাই করেছে তারা গত ১৮ মাস।’

আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীতে কখনোই রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময়ে যাইনি, দাওয়াত পেলেও না। তবে আজ গিয়েছি- শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি পদটির প্রতি সম্মান জানাতে, বাটপার ইউনুস যা পারেনি। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতিই—তিনি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন হোন বা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

(স্বস্তির বিষয়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। উনার ছেলের সঙ্গে দেখা হলে বললেন, “আব্বা আপনাকে খুঁজছেন।” এটা ছিল আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ)

গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেদিনই মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন।

এ মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। এ সব মামলায় জামিন হলে গত ১৪ মার্চ কারামুক্ত হন এই সাংবাদিক।

 

Exit mobile version